• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

মধনগরে ধান বিক্রি অর্ধেক দামে” অর্ধেক খেলো টেবলার পানি কৃষকের আহাজারি : মরার উপর খাড়ার গাঁ” একদিকে বৃষ্টির পানিতে ফসলহানী”অন্যদিকে খোলা বাজারে দামে সস্তা ধান


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ন / ১২
মধনগরে ধান বিক্রি অর্ধেক দামে” অর্ধেক খেলো টেবলার পানি কৃষকের আহাজারি : মরার উপর খাড়ার গাঁ” একদিকে বৃষ্টির পানিতে ফসলহানী”অন্যদিকে খোলা বাজারে দামে সস্তা ধান

এম এ মান্নান,মধ্যনগর, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কৃষকের সারা বছরের গাম আর পরিশ্রম বৃথাই গেলো, বৃষ্টিতে তলিয়ে গেলো হাজারটা স্বপ্ন। দির্ঘমিয়াদী বৃষ্টি আর বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নীচু জমির কাঁচা ধান। বর্তমানে উঁচু জমির ধান কাটতে শ্রমিকের অভাব। মাটি নর হয়ে, রাস্তা নষ্ট হয়ে,ধান আনতে মরন ফাঁদ। রোদ না থাকায় ধরছে পচন ধান।

মরার উপর খাড়ার গাঁ, একদিকে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ফসলহানী,অন্যদিকে ধান বেচতে গেলে কৃষক পাচ্ছে অর্ধেক দাম। হাওরাঞ্চলে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ৭৫ শতাংশ। এতে মধ্যবিত্ত কৃষকেরা দরিদ্র হওয়ার আশংকা বেড়েছে। এছাড়াও নিম্নবিত্ত কৃষক বর্গা চাষ ও একসনা জমি কিনে চাষাবদ করেছে অনেকেই। এই ফসল হানীর ঘটনায় নিঃসন্দেহে পথে বসবে ৬০ শতাংশ মানুষ।

সরকার অর্থবছরে ধানের মূল্য নির্ধারণ করেছেন, প্রতি একমণ ধানের দাম ১ হাজার ৪ শত ৪০ টাকা। অথচ খোলা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৬ শত ৫০ টাকা থেকে ৭ শত টাকা।

সরকার নির্ধারিত মূল্য বেধে দিলেও,ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাওরাঞ্চলের কৃষক। সরকার ঘোষিত নির্ধারিত দামের অর্ধেকও পাচ্ছেন না কৃষক। অসাধু সিন্ডিকেট ধান চাল ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা লাভের জন্য, কৃষক মারার ফাঁদ তৈরি করেছে। কৃষকের এই অনাকাঙ্খিত দুর্ভিক্ষ, দেখার মতো কেউ নেই। মধ্যনগরের হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে দুর্যোগ কবলিত, বিভিন্ন কালারের কাঁচা ধান অপারগ হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে সস্তা দামে। এতে ধান ফলাতে চাষাবাদ ও বিভিন্ন উপকরণ খরচ মিলিয়ে হিসাব করলে ৭৫ শতাংশ লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বললে, তারা জানায় যে, চৈত্র ও বৈশাখে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরের প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি পানিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া যেগুলো জমি জলাবদ্ধতার মধ্যে ধান আছে , সেগুলো ধান সংগ্রহ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, তেলের অভাব হারভেস্টার মেশিন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকের সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি খরচ করতে হচ্ছে কৃষকদের। তারপরও ধান সংগ্রহ করতে হন্য হয়ে ঘুরছে শ্রমিকের তালাশে।

তাছাড়া পানি বন্দি জমির ধান পানিতে ভিজে সোনালী রঙ নষ্ট হয়ে, ধান কালো রঙের হয়ে গেছে। ফলে মৌসুমের শুরুতেই কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। গুদামে ধান দিতে গেলেও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগও রয়েছে। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক কৃষক।
এছাড়াও অধিকাংশ ধানে পচন ধরতে দেখা গেছে। ফলে কম দামে ধান বিক্রি করে চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও তা পরিশোধ নিয়ে কৃষকের চরম দুশ্চিন্তায় এবং দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ঋণ পরিশোধের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

সারাদেশে মধ্যনগর বাজারে বৃহত্তর ঐতিহ্যবাহী ধানের মোকাম হিসেবে পরিচিত। তবে এবছর দেখা গেছে, আড়ৎগুলোতে ধান বেচাকেনার তেমন কোলাহল নেই। ধান ক্রয়ে বেপারীরা ন্যায্য মূল্য থেকে বিক্রেতাদের বঞ্চিত করারও অভিযোগ উঠেছে কৃষকদের। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনেক আড়ৎদাররা জানান,অন্য বছরের তুলনায় এবছর বাজারে ধান আসেনা। যাই কিছু আসে ধানের কোয়ালিটি মানসম্মত নয়। রোদ না থাকায় শুকানা ধান আসেনা। যাই আসে ভিজে এবং কালো। ভালো মানের ধান পাওয়া গেলে আমরা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা মণ দরে ক্রয় করতে পারবো।

কৃষকের ন্যায্য মূল্য পেতে অসাধু লোভী ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে খুব জরুরী সরকারের কতৃপক্ষের নজরদারি ফোকাস বাড়াতে হবে।