• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

কৃষকের ভাগ্যবদল ও পরিবেশ রক্ষায় আবার ফিরছে ‘খাল খনন’: রাঙামাটিতে পার্বত্যমন্ত্রীর ঘোষণা


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ন / ১১
কৃষকের ভাগ্যবদল ও পরিবেশ রক্ষায় আবার ফিরছে ‘খাল খনন’: রাঙামাটিতে পার্বত্যমন্ত্রীর ঘোষণা

​মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটিঃ রাঙামাটি পাহাড়ের ঢালু জমিতে পানির হাহাকার কিংবা বর্ষায় জলাবদ্ধতা এই দুই সংকট থেকে কৃষকদের মুক্তি দিতে আবারও তৃণমূল পর্যায়ে শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচি।

গত রোববার সকালে রাঙামাটির সাপছড়ি ও কুতুকছড়ি ইউনিয়নে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মূলত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কালজয়ী ‘খাল খনন বিপ্লব’ এর আধুনিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের নেতা ছিলেন। তিনি বুঝে ছিলেন, বাংলার কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই চিন্তা থেকেই তিনি দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। বিএনপি সবসময়ই কৃষক ও শ্রমিকের কল্যাণে কাজ করেছে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ সময় এই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবং প্রভাবশালী মহলের খাল দখলের কারণে দেশের কৃষি ও পরিবেশ আজ হুমকির মুখে।

​রাঙামাটি সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন সাপছড়ি, কুতুকছড়ি, বন্দুকভাঙ্গা ও বালুখালী এখন নতুন করে প্রাণের স্পন্দন পেতে যাচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
​মোট ব্যয়: ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। খননের দৈর্ঘ্য: প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। প্রাথমিক এলাকা মানিকছড়ি ছড়া ব্রিজ থেকে বড়পাড়া নালা এবং কুতুকছড়ি বাজার থেকে মোনতলা পর্যন্ত মাউরুম খাল।​মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। খাল খনন সেই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।আমরা শুধু মাটি কাটছি না, আমরা পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। এই খালগুলো দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে একদিকে যেমন সেচ সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে মৎস্য চাষ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। দীপেন দেওয়ান, পার্বত্যমন্ত্রী।

এই প্রকল্পটি শুধু কৃষি উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মন্ত্রী বলেন, খাল খননের ফলে ওই এলাকায় পানির প্রাপ্যতা সহজ হবে, যা স্থানীয় তরুণদের মৎস্য চাষ ও সমন্বিত কৃষি খামারের দিকে উদ্বুদ্ধ করবে। সরকার এসব এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।
​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হোসেন চৌধুরী আশ্বস্ত করেন যে, প্রকল্পের কাজ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহাম্মদ শফি জানান, খালের গভীরতা ও নাব্যতা ঠিক রাখতে কারিগরি দিকগুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন অবহেলিত ও ভরাট হয়ে যাওয়া এসব খাল পুনরায় খননের ফলে পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুনসহ উপস্থিত নেতারা মনে করেন, তৃণমূল মানুষের সাথে সরকারের এই সরাসরি সম্পৃক্ততা দেশের টেকসই উন্নয়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
​স্থান: সাপছড়ি ও কুতুকছড়ি ইউনিয়ন, রাঙামাটি।
​প্রধান অতিথি: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।​মূল বার্তা খাল খননের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ও পরিবেশ সুরক্ষা। ৮.৫০ কোটি টাকার প্রকল্প।