

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়নগঞ্জঃ নারায়ণগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে আপোষের শর্তে জামিন পাওয়ার পরপরই মামলার বাদীকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামি খান মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুনরায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রোববার জামিন শুনানি শেষে অভিযুক্ত খান মাহমুদকে মামলার বাদীর সঙ্গে আপোষের শর্তে সাময়িক জামিন প্রদান করেন। আগামী ৩ মে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আসামি পক্ষের হয়ে জামিন শুনানিতে অংশ নেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান।
অন্যদিকে, বাদীপক্ষের হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মোল্লা, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সাহিদুল ইসলাম টিটু এবং অ্যাডভোকেট শম্ভুনাথ সাহা সৈকত।
জামিনের পরই হুমকির অভিযোগঃ অভিযোগ উঠেছে, জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসামি খান মাহমুদ মামলার বাদী, শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী নয়নী রানী সাহাকে মোবাইল ফোনে কল করে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় পুনরায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগঃ মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী খান মাহমুদ ওই নারীকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।
এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিলে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গত ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকা থেকে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠালেও রোববার জামিন প্রদান করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগঃ আইনজীবী ও সচেতন মহলের মতে, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোতে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অনেক সময় আসামিরা জামিন পেয়ে পুনরায় ভুক্তভোগীদের হুমকি বা হয়রানির সুযোগ পায়। এতে করে ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীরা এমন ঘটনায় অধিক ঝুঁকির মধ্যে থাকেন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবিঃ সচেতন মহল মনে করেন, নারী নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর মামলায় আদালতের আরও কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের আচরণ পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :