• ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

কোটালীপাড়ায় ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের দাবি অবহেলার


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ন /
কোটালীপাড়ায় ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের দাবি অবহেলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক প্রসূতির ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ‘হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল (প্রাঃ লিঃ)’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। নিহত প্রসূতির নাম নিপা খন্দকার (১৯)।

শুক্রবার সকালে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য তিনি উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন। দুপুর দুইটার পর তার সিজার সম্পন্ন হয় এবং তিনি একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তবে সন্তান জন্মের পরপরই নিপার মৃত্যু হলে আনন্দের পরিবেশ শোকে পরিণত হয়।

স্বজনদের অভিযোগ ও ঘটনাপ্রবাহচিকিৎসক পরিবর্তনের অভিযোগঃ স্বজনদের দাবি, সিজার করার কথা ছিল সার্জেন ডাঃ শ্যামল বাড়ৈর। কিন্তু তার পরিবর্তে সিজার পরিচালনা করেন ডাঃ সোহাগ হাওলাদার।

সন্দেহজনক রেফারঃ নবজাতককে হস্তান্তর করার পরই ক্লিনিকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায় রোগী ‘স্ট্রোক’ করেছেন এবং তাকে দ্রুত ঢাকা বা খুলনায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

ক্লিনিকেই মৃত্যুর দাবিঃ ঢাকা নেওয়ার পথে স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিপাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিকের ভেতরেই তার মৃত্যু হয়েছিল, অথচ দায় এড়াতে মৃত রোগীকে রেফার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিচয়ঃ নিহত নিপা খন্দকার কোটালীপাড়া উপজেলার আটাশিবাড়ী গ্রামের মহিউদ্দিন খন্দকারের মেয়ে। দুই বছর পূর্বে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার ইছাইল ভাগজাম গ্রামের মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। নবজাতক সন্তানটি তাদের প্রথম সন্তান ছিল। পরিবারের সদস্যরা এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনঃ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক সোহাগ হাওলাদার পলাতক রয়েছেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) থাকা অবস্থায় রোগী হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন জানান, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।