• ঢাকা
  • সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন

হেমন্তে বাঁশের সাঁকো বর্ষায় নৌকাই ভরসা জীবনের ঝুঁকি নদী পারাপার


প্রকাশের সময় : মে ১১, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ন /
হেমন্তে বাঁশের সাঁকো বর্ষায় নৌকাই ভরসা জীবনের ঝুঁকি নদী পারাপার

এম এ মান্নান, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মহিষখলা বাজার-ঘেঁষা মহিষখলা নদী যেন হাজারো মানুষের কাছে এক দুর্ভোগের নাম।

হেমন্তে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকাই একমাত্র ভরসা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারে ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ। নদীর বুকে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে যুগের পর যুগ চলছে মানুষ।

চরম ভোগান্তিকে সঙ্গী করে চলেছেন এপার-ওপারের বাসিন্দারা। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে উত্তাল নদীতে নৌকাই শেষ ভরসা। আর হেমন্তের শীতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে।

মহিষখলা নদীর এপারে ঐতিহ্যবাহী প্রাণচঞ্চল মহিষখলা বাজার। ওপারে সীমান্ত ঘেঁষা বান্দ্রা বহেরাতলী সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ঐ নদী পার হয়ে বাজারে আসতে হয়।

প্রতিদিন এই পথে জীবনের তাগিদে ছুটে চলেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীদের বেলায় আরও দুর্বিসহ।

সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢলে নদী ফুঁসে উঠে, নদীতে শ্রুতের বেগ হয় অনেক বেশি। এ সময় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় একটি নৌকার জন্য।

স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভের সাথে গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এ এলাকার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কোন উন্নয়ন হয়নি। একটি সেতুর অভাবে যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী। শীত এলে নিজেরা চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো বানাই। সেই সাঁকোই আমাদের মরণফাঁদ। প্রায় সময় সাঁকো ভেঙে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় অনেকেই। ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে পার হতে হয়।

বান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন ও বিল্লাল মিয়া বলেন, এই সেতু আমাদের মৌলিক অধিকার। এটি হলে শুধু হাজারো মানুষের নিরাপদ চলাচলই নিশ্চিত হবে না, বরং সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের অপার সৌন্দর্যে পর্যটকদের কাছে উন্মোচিত হবে। পর্যটন বাড়লে আমাদের হাট-বাজারের উন্নয়ন হবে,সেই সাথে মানুষের আয়-রোজগারও বাড়বে। পুরো এলাকার অর্থনীতির চিত্রটাই পাল্টে যাবে।

বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুর নবী তালুকদার জানান, এলাকাবাসীর এই প্রাণের দাবির সঙ্গে আমি সরকারের কাছে জোড়ালো দাবি জানাচ্ছি। সরকারি বরাদ্দের অভাবে আমি নিজের টাকায় প্রতি বছর বাঁশের সাঁকো আর নৌকার ব্যবস্থা করে দেই। কিন্তু এটা তো স্থায়ী সমাধান নয়। তিনি আরও বলেন, নদীর ওপারে বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। একটি স্থায়ী সেতু হলে সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার হবে, সেই সঙ্গে চোরাচালান রোধ সহজ হবে এবং মহিষখলা বাজার আরও সুরক্ষিত থাকবে।

মধ্যনগর উপজেলা প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন বলেন, আমরা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করছি। মহিষখলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলেই আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।