• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত হিমায়িত চিংড়ি শিল্প : ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শিক্ষার্থীরা


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ন / ২০
লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত হিমায়িত চিংড়ি শিল্প : ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শিক্ষার্থীরা

মোঃ রাজিবুল ইসলাম রাজিব, খুলনাঃ খুলনা অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট ও লাগাতার লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হিমায়িত চিংড়ি শিল্পে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের ঘন ঘন বিচ্ছিন্নতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ব্যয়—ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্যাক্টরি সচল রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সহজ শর্তে সরাসরি ডিপো থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রূপসা উপজেলার ইলাইপুর এলাকায় অবস্থিত ফ্রেস ফুডস লিমিটেডের কর্তৃপক্ষ জানায়, চিংড়ির মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও ফ্যাক্টরির সব বিভাগ চালু রাখতে হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে দুই শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। তবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৫ দফায় মোট ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। যেখানে ২৪ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিল গড়ে ২৯ হাজার টাকা, সেখানে ওই সময় জেনারেটর চালাতে ডিজেলের পেছনে খরচ হয়েছে ৫৫ হাজার ৩১৫ টাকা। অর্থাৎ একদিনেই অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকার বেশি ভর্তুকি গুনতে হয়েছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে নগরীর ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি, এতে পণ্য বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপরও। চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে। পড়াশোনার সময় বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরম ও অন্ধকার পরিবেশে তাদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্প খাতে জ্বালানি প্রাপ্তি সহজ করা গেলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।