• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চিরনিদ্রায় লেবানন প্রবাসী দিপালী আক্তার


প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ন / ১১
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চিরনিদ্রায় লেবানন প্রবাসী দিপালী আক্তার

এম, এম, সাইফুর রহমান, চরভদ্রাসন, ফরিদপুরঃ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত বাংলাদেশী নারী শ্রমিক দিপালী আক্তার (৩৪) কফিনবন্দি মৃতদেহ এক মাস পর দেশে এসে পৌছেছে।

শুক্রবার ( ৮মে ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুরের মুন্সিরচর গ্রামে তাঁর মৃতদেহ এসে পৌছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দিপালী ওই গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে।

গত ৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হামরা এলাকায় কর্মস্থলে মিসাইল হামলার শিকার হন। পরে তার মৃতদেহ সেখানে রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। ওই সময় তিনি তার নিয়োগকর্তা (কফিল) পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। হামলায় কফিল পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে সার্টিফায়েড পুলিশ রিপোর্ট ও লাশ পাঠানোর অনুমতিপত্র গ্রহণসহ যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃতদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তার লাশ গ্রহণ করেন। এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দিপালীর বাবা শেখ মোফাজ্জল ও ভাই শেখ ওবায়দুরের নিকট তারা মৃতদেহ হস্তান্তর করেন।

এদিকে, দিপালীর লাশ তাঁর গ্রামের বাড়ি এসে পৌছালে স্বজনরা বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুর দরান্ত  থেকে অনেকে তাদের বাড়িতে ছুটে আসেন। এসময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান কার্যালয়ের সহকারী পরিচাক আশিক সিদ্দিকী ও ১নং চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বেপারী এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১০টায় বাড়ির পাশে মুন্সিরচর মসজিদ প্রাঙ্গণে দিপালীর জানাযায় অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে বাড়ির অদুরে তাদের জমিতে দাফন করা হয়।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম নিহত দিপালীর বাবা মোফাজ্জেল শেখকে মোবাইলে ফোন করে খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন।

মোফাজ্জল শেখের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দিপালী আক্তার বড় ছিলেন। তারা তিন বোন ও দুই ভাই। দিপালী অবিবাহিত ছিলেন। পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি লেবাননে পাড়ি জমান। প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের হাল ধরেছিলেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আকাশপথে বিমান চলাচল বিঘ্ন হওয়ায় দিপালীর লাশ দেশে পৌছাতে কিছুটা বিলম্বিত হয়। তবে সরকার তার পরিবারের পাশে থেকে সবধরনের সহায়তা করে আসছে।