

এম এ মান্নান, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের হাওর বেষ্টিত মধ্যনগর উপজেলা সহ বিভিন্ন হাওর অঞ্চলের সবকটি হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখন বিপর্যয়ের শঙ্কা। ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে ভৌগোলিক অবক্ষয়।
সচেতন মহলের ধারনা করছেন, হাওর অঞ্চলের কৃষকের উন্নয়নে,সরকার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া খুব জরুরী।প্রতিবছর অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণে যেমনটা সরকারের টাকা অপচয় হচ্ছে, তেমনি প্রাকৃতিক ভৌগোলিক অবক্ষয় সহ নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
সু-পরিকল্পনার অভাবে দেখা গেছে নানাভাবে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে দেখা গেছে, বাড়ছে দিনদিন দুর্যোগ। এতে করে প্রাকৃতিক হুমকির মুখে পড়ছে হাওর অঞ্চলের মানুষ। বাঁধ মেরামতে দিনদিনে দেখা দিয়েছে মাটির সংকট, অপরদিকে বাঁধের উপরে দুর্বা ঘাস লাগানোর কোনো সুফলের দেখা মিলেনি। উপুড়ন্ত কান্দা বা পতিত জায়গায় জন্ম নেয়া দুর্বা ঘাস উঠিয়ে গরুর খাদ্যে করা হচ্ছে নষ্ট। কৃষকরা গরু চড়াতে গিয়ে মিলছেনা গরুর খাদ্যের দুর্বা ঘাস। অন্যদিকে বর্ষকালে বাঁধের মাটি ধীরে ধীরে ধ্বসে গিয়ে নদীর গর্ভে ভরাট হয়ে নব্যতা হারাচ্ছে নদী ও খাল, বিল।
প্রতিবছরেই সরকারের কতৃপক্ষ অপরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত, হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ পিআইসি’র মাধ্যমে ভাঙা আধা ভাঙা বাঁধগুলি মেরামত করা হয়ে থাকে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
মধ্যনগর উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের মেরামত ও সংস্কার কাজে এবছর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮ কোটি ৮০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তাছাড়া সুনামগঞ্জ জেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা। প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ মেরামত করা হলেও, বর্ষা মৌসুমে ঢেউ আর স্রোতে নতুন সংস্কারের বাঁধ ভেঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয় দেড়শ কোটি টাকা। এতে আগামী দুএক বছরের মধ্যে দেখাদিবে মাটির সংকট,মিলবেনা বাঁধের মাটি। অন্যদিকে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেও, স্থায়ীভাবে এর কোনো সুফল দেখা যায়নি।
এ অবস্থায় সুপরিকল্পিত ভাবে সরকার হাওর উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া অত্যান্ত জরুরী। এর মধ্যে নদী খননের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সুইস গেইট নির্মাণ করা। তাছাড়া গোখাদ্য হিসেবে কাঁচা ঘাস জন্ম নেওয়ার বিস্তর জায়গা হবে বেড়িবাঁধের স্লো গুলিতে। প্রতিবছর বিল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে দেখা দেয় পানির সংকট। আবার একটু ভারি বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় নিচের ফসলি জমি,এতে নষ্ট হয় হাজার হাজার মেট্রিক টন ধান। এছাড়াও বিল শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ধ্বংস হচ্ছে মাছের বংশ,মাছের প্রজন্ম নিধন ঠেকাতে হলে, বিল খনন অতি জরুরী। যার ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধি ও পানির সংকট দূরীকরণ সম্ভব হবে।
সরকার হাওর অঞ্চলের হাওর উন্নয়ন ভাবনা সুপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ীবাঁধ নির্মাণে ভূমিকা নিলে,একদিকে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয়ের মহোৎসব ভাঙলেন,অন্যদিকে কৃষকের ফসল ধান এবং মাছের ভান্ডার মজবুত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :