

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথেই ভোল পাল্টাতে শুরু করেছে অনেক সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদের রূপ।
এই তালিকায় অন্যতম আলোচিত নাম আনোয়ার হোসেন আকাশ। বাংলাদেশ জনতা লীগের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তিনি ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী-কদমতলী) এলাকায় বিএনপির সিনিয়র নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ১৫ বছর ধরে আনোয়ার হোসেন আকাশ আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশ, র্যাব ও ডিবির মাধ্যমে ধরিয়ে দেওয়া এবং হয়রানি করার নেপথ্যে তার বড় ভূমিকা ছিল।
বিশেষ করে ২ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়ে বিএনপি বিরোধী একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেন তিনি।
উক্ত সভায় তিনি বিএনপি-জামায়াতকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে” শিরোনামে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার সঙ্গে থাকা রাজিব তালুকদারের বিরুদ্ধেও জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলার লিস্টে রয়েছে।
জুলাই মাসের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যখন ছাত্র-জনতা রাজপথে, তখন আনোয়ার হোসেন আকাশ সরাসরি স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষ নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এ ছাড়াও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন বিতর্কিত ওসি মাজারুল ইসলামের সাথে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ছাত্র-জনতা হত্যার অন্যতম প্রধান আসামি এই ওসি মাজারুলকে ব্যবহার করে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের ওপর জেল-জুলুম, নির্যাতন ও হামলা চালাতেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে তিনি এখন নিজেকে বিএনপির সিনিয়র নেতা হিসেবে জাহির করছেন। বর্তমানে তাকে যাত্রাবাড়ী এলাকার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে বিভিন্ন আলোচনা সভায় এবং একই টেবিলে বসে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে।
জনমনে প্রশ্নঃ যে ব্যক্তি কয়েক মাস আগেও বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে গালি দিয়েছে এবং রাজপথে আন্দোলনকারীদের রক্ত ঝরিয়েছেন, তিনি কোন জাদু বলে আজ বিএনপির বড় নেতা বনে গেলেন?
যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকার ভুক্তভোগী এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের দাবি, এই ধরনের ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
তারা বলছেন, শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে রূপ পরিবর্তনকারী এসব ব্যক্তিরা রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
আপনার মতামত লিখুন :