• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচকদের আস্থা হারানোর পথে


প্রকাশের সময় : মে ১, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন /
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচকদের আস্থা হারানোর পথে

সুখময় মণ্ডল, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের যে বুথফেরত সমীক্ষা হাতে এসে পৌঁছেছে তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে বাধ্য। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী দলসমূহ, আই এস এফ ইত্যাদি বিরোধী দল বিন্দুমাত্রও প্রভাব ফেলতে পারেনি এবারের নির্বাচনে। এইসব দলের সংগঠন অত্যন্ত দুর্বল। শহরাঞ্চলে কোনও কোনও স্থানে সিপিআই (এম), সিপিআই, এসএউসিআই, ফরোয়ার্ড ব্লক প্রভৃতি দলের ক্বচিৎ কার্যালয় চোখে পড়ে বটে। তবে মজার কথা হলো, সেসব অফিস প্রতিদিন খোলেনা। বিশেষ বিশেষ দিনে, বিশেষ বিশেষ পর্বে অফিসের ঝাঁপ তোলা হয়। এই যেমন আজ, অনেক বামপন্থী মতাদর্শের অফিস খোলা আছে মে ডে উপলক্ষ্যে। আর গ্রামেগঞ্জে অধিকাংশ অফিসে বাতি দেওয়ার লোক নেই বললেই চলে। টানা চৌত্রিশ বছর রাজত্বকরা সিপিএম অর্থাৎ মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি পশ্চিমবঙ্গে শূন্য হয়ে গেছে অনেক অনেক দিন আগেই। মমতা ব্যানার্জি প্রতিষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১সাল থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর রাজত্ব করে আসছে। তৈরি হয়েছে পাকাপোক্ত রাজনৈতিক দল। পঞ্চায়েত, পৌরসভা, বিধানসভা, লোকসভা, যাবতীয় সংস্থায় এই দলের একচ্ছত্র আধিপত্য। সিঙ্গুর আন্দোলনে কোণঠাসা বামদলগুলির গাছাড়া ভাব, নন্দীগ্রামে গুলিচালনা, পার্ক স্ট্রীট ধর্ষণ, কামদুনি, আর জি কর কাণ্ড ইত্যাদি অরাজকতার সুযোগে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি ধীরে ধীরে সংগঠন গড়ে তোলে। ইদানীংকালে আর জি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসক ধর্ষিতা ও খুন হলে মমতা বিরধীদলগুলি দ্রুত জনমতকে নিজ নিজ পক্ষে টেনে আনতে চেষ্টা করে। এব্যাপারে সব থেকে সফল হয় ভারতীয় জনতা পার্টি। এই দল মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে জোরালো টক্কর দিতে থাকে। মমতার একসময়ের বিশ্বস্ত সহচর শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মমতাকে হারিয়ে জয়লাভ করেল। এই শুভেন্দু অধিকারী বিরধী দলনেতা হিসেবে বিধিনসভা কাঁপিয়ে দিতে থাকেন সব ধরণের বিষয়ে। তিনি গড়ে তোলেন বিজেপির প্রতি জনতার আস্থা। বিজেপি দলের পালে হাওয়া লাগে চাকুরি ও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর। সেই যে বিজেপির উত্থান তা ক্রমাগত আকাশ স্পর্ষৃ করে।

ভারতের অধিকংশ নির্বাচনী সমীক্ষক সংস্থা ভারতীয় জনতা পার্টিকে এগিয়ে রেখেছে। দুদফার এবারের নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যাপক পরিমাণে অংশগ্রহণ শাসকদলের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১১ সালের যে নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রণ্ট সরকারের পতন ঘটে সেই নির্বাচনে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ ভোট বেশি পোল হয়। এ যে প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোট তা মালুম হয় ভোট গনণার পর। এ বঙ্গের কংগ্রেস সরকারের পতনের ক্ষণেও এই রকম অতিরিক্ত বেশী পোল হয়েছিল। তখন বাম নেতারা বলেছিলেন জনবিরোধী সরকারি নীতির বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের ভোট, জনতাজনার্দনের রাগের ভোট।

এবারের ভোটে কিন্তু ব্যাপক ভোট পোল হয়েছে। কোথাও বা ৯৫/৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এবার ভট দিতে হাজারে হাজেরে পরিযায়ী শ্রমিক ভোট দিয়ে গেছেন। সাধারণত এঁরা এমন ব্যাপক সংখ্যায় ভোট দিতে আসেন না। আবার বিরোধীরা ভোটে রিগিং অর্থাৎ ছাপ্পা ভোটের কথা তোলেন তা এবার দেখা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কড়া নিরাপত্তায় ভোট হয়েছে। আর দুটো দিন আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে। ৪ মে ভোট গণনা। দুপুরের মধ্যে ফলাফল। দেখা যাক, দিদির দল না মোদির দল।