• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

নদী খননের মাটিতে চাপা পড়ার শঙ্কা, ডুমুরিয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে শতাধিক পরিবারের মানবেতর জীবন


প্রকাশের সময় : জুন ১৫, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন / ২৫
নদী খননের মাটিতে চাপা পড়ার শঙ্কা, ডুমুরিয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে শতাধিক পরিবারের মানবেতর জীবন

খুলনা ব্যুরোঃ নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে নতুন ঠিকানা পাওয়া খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শতাধিক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার এখন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে।

বুড়িভদ্রা নদী পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ চলাকালে অপরিকল্পিতভাবে মাটি ফেলা ও নদীর পাড় কেটে খনন করায় উপজেলার কাঁঠালতলা, খর্নিয়া ও চুকনগর এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদী থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ পলিমাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর পেছনে ও পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও মাটির চাপে ঘরের দেয়াল ও জানালায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ঘরের ভেতরে কাদা ঢুকে পড়েছে। নদীর কিনার ঘেঁষে খনন করায় কিছু ঘর নদীগর্ভে ধসে পড়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২১ ও ২০২২ সালে ডুমুরিয়ার চুকনগর, খর্নিয়া ও কাঁঠালতলা এলাকায় শতাধিক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। খাস জমির ওপর নির্মিত দুই কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা ঘর ও জমির মালিকানা পেয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন এসব পরিবার।

এদিকে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে আপার ভদ্রাসহ পাঁচটি নদীর প্রায় ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এ প্রকল্পের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় উত্তোলিত মাটি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়নি। ফলে কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৬টি এবং খর্নিয়া এলাকার প্রায় ২৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া কাঁঠালতলা প্রকল্পের তিনটি টিউবওয়েলের মধ্যে দুটি অকেজো হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। কয়েকটি পরিবারের টয়লেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, নদীভাঙনে সব হারিয়ে এখানে আশ্রয় পেয়েছিলাম। এখন নদীর কাদা মাটি ঘরের পাশে ফেলে রাখায় দেয়ালে ফাটল ধরেছে। রাতে ঘুমাতে ভয় লাগে, কখন কী হয়।

খর্নিয়া এলাকার দিনমজুর আব্দুল জলিল বলেন, নদীর পাড় এত কাছে কাটা হয়েছে যে বৃষ্টি হলে ঘর ধসে পড়ার ভয় রয়েছে। বাথরুম ভেঙে গেছে, টিউবওয়েল নষ্ট হয়েছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে খাট, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাইরে সরিয়ে রেখেছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, কাঁঠালতলা ও খর্নিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদী খননের মাটি জমে বাসিন্দাদের ভোগান্তির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, নদী পুনঃখনন প্রকল্পের সুফল যেমন প্রয়োজন, তেমনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো দ্রুত সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মাটি অপসারণ এবং নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।