• ঢাকা
  • রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

শিক্ষক অনুপস্থিত দুপুরেই ছুটি উড়ছেনা জাতীয় পতাকা


প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন / ১৪
শিক্ষক অনুপস্থিত দুপুরেই ছুটি উড়ছেনা জাতীয় পতাকা

এম এ মান্নান, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ২নং দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উড়ছেনা জাতীয় পতাকা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে জানা যায়, পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে চারজনেরই অনুপস্থিত রয়েছে। তাছাড়া একজন শিক্ষিকা পাওয়া গেলেও দুপুরেই দিয়েছেন ছুটি। শিক্ষকদের এরকম অনুপস্থিতি সহ পাঠদানের নির্ধারিত সময় থাকলেও, দুপুরেই ছুটি দেন তারা। এই বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রমে চরমে। এবং অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও, অধিকাংশ দিনেই তিনজনই অনুপস্থিত থাকেন,এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর শূন্যতা দিনদিন বাড়ছে। শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত এমন অনুপস্থিত থাকার কারণে কোমল মতি শিশু শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় আগ্রহ কমছে বলে, এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অভিভাকরা। এসব অনিয়ম মিলিয়ে ভেঙে পড়েছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।

গত মঙ্গলবার, ৫ মে দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের কোনো কোলাহল নেই। অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ রয়েছে। এরমাঝে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে একমাত্র সহকারী শিক্ষিকা তাবাসসুমকে পাওয়া যায়। অসময়ে বিদ্যালয়ের ছুটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে, সহকারী শিক্ষিকা তাবাসসুম বলেন, আজ শিক্ষার্থী কম এসেছে। তাই দুপুর আড়াইটায় ছুটি দিয়ে দিয়েছি। আজ অন্য কোনো শিক্ষক আসেননি, আমি একাই ছিলাম।

বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়। দায়িত্বহীন শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত ডিউটি করেননা। এমনটাই এলাকার সুধীজনরা মন্তব্য করছেন। এছাড়াও প্রশাসনিক কোনো নজরদারি না থাকায়,শিক্ষকদের উপস্থিতি অনিয়মিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন গ্রামের লোকজন দিয়েই স্কুল খোলা হয়। প্রধান শিক্ষক সাধারণত বেলা ১১টার দিকে আসেন। আবার দুপুরেই ছুটি দিয়ে চলে যান। হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে তাদের দেখা মেলে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজব আলী বলেন, গত ৫ মে মঙ্গলবার আমার জরুরি মিটিং ছিল, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আরও বলেন, আমি এই মুহূর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনিচ্ছুক। আপনারা সরেজমিনে এসে তদন্ত করুন।

মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের উপস্থিতি জোরদার করতে এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষমুখী করতে দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।