• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন

রক্তাক্ত খুলনায় পুলিশও অনিরাপদ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ন / ৮
রক্তাক্ত খুলনায় পুলিশও অনিরাপদ

বিশেষ প্রতিবেদক, খুলনাঃ খুলনায় রাতের বেলা পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিট ইনচার্জদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ও পুলিশ সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে প্রশাসন এমন নির্দেশনা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

নির্দেশনাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বর্তমানে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা পরিলক্ষিত হওয়ায় সদস্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অভিযান কিংবা অন্যান্য দায়িত্ব পালনকালে রাতে কোনোভাবেই যেন সদস্যরা একা চলাচল না করেন।

খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, গত ৮ অক্টোবর গভীর রাতে রূপসা থানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা শেষে ফেরার পথে এক পুলিশ পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। ঘটনার সময় তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরই মূলত জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তা বিবেচনায় রাতের বেলায় একা চলাচলের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী সড়কের খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হন ৪৩ বছর বয়সী পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম। ছিনতাইকারীদের হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকায় রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, যেখানে পুলিশের নিরাপত্তা নেই সেখানে পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেবে কিভাবে? খুলনা প্রশাসন পুলিশ সদস্যদের রাতে বেলা একা চলতে নিষেধ করেছে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাচতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়েছে। এমন নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনা বিরল। আগে কখনো শোনা যায়নি। তারা আরো বলেন, খুলনা শহরসহ গোটা জেলা সন্ত্রাসীদের অভয়রণ্যে পরিণত হয়েছে। এই জনপদ প্রায় প্রতি দিনই রক্তাক্ত হচ্ছে। মানুষ খুন যেন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তার, মাদকসহ নানা অপরাধে খুনের ঘটনা ঘটছে। রুপসা নদী থেকেও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটে যেখানে সেখানে মরদেহ পড়ে থাকছে। খুলনা শহর আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। যে পুলিশ সদস্যরা মানুষের নিরাপত্তা দেবে তাদেরও নিরাপত্তা নেই। তারাও ছিনতাই বা সন্ত্রাসীদের হাতে আক্রান্ত হচ্ছে-রক্তাক্ত হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ১০ সন্ত্রাসী গ্রুপ ও কিশোর গ্যাংয়ের দাপটে অস্থির খুলনাবাসী। অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ। কারও হাতে উঠছে ধারালো অস্ত্র, কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় গ্রুপভিত্তিক সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও উঠতি বয়সীদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসছে। সম্প্রতি একাধিক সংস্থার প্রতিবেদনে খুলনা মহানগর ও জেলায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে অন্তত ৫৮টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে উঠতি বয়সীদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রকাশ্য স্থানে গুলি ও হামলার ঘটনাও খুলনাবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।