• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

শার্শায় নাইট গার্ড ওলিয়ারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ : ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি স্ত্রীর


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ন / ৩৮
শার্শায় নাইট গার্ড ওলিয়ারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ : ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, শার্শা, যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর বাজারের নৈশপ্রহরী ও স্থানীয় যুবদল কর্মী ওলিয়ার রহমানকে (৪৫) ১৩পিস ইয়াবাসহ আটকের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

ওলিয়ারকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্ত্রী সালেহা বেগম।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে শার্শার লক্ষণপুর কলোনিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক ওলিয়ার রহমান ওই এলাকার মৃত আব্দুর রবের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর কাছ থেকে ১৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওলিয়ারের স্ত্রী সালেহা বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামী নিরপরাধ। তাঁকে ছাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষণপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আজমল হুদা মিঠু এবং আরিফ নামে এক চালকের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। স্বামীকে ছাড়ানোর আশায় তিনি নিজের জমানো টাকা দিয়ে ওই অর্থের ব্যবস্থা করেন। এমনকি মেয়ের টিফিনের জন্য জমানো টাকা রাখা মাটির ব্যাংকও ভেঙে ফেলেন বলে জানান তিনি।

সালেহা বেগম আরও অভিযোগ করেন, আরিফের সঙ্গে তাঁর স্বামীর পূর্ব বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে আরিফ পুলিশ দিয়ে তাঁর স্বামীকে ধরিয়ে দিয়েছেন বলে তাঁর দাবি।

এদিকে লক্ষণপুর গ্রামের হযরত আলী নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁর নাতি মাসুমের (২৫) মাদকাসক্তির সমস্যা রয়েছে। মাঝে মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও ওঠে। নাতিকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে তিনি গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে যান এবং সেখানে এএসআই আজমল হুদা মিঠুর সঙ্গে কথা বলেন।

হযরত আলীর দাবি, তিনি তাঁর নাতিকে ভালো পথে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানোর অনুরোধ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ১৫ পিস ইয়াবা জোগাড় করে দিতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হযরত আলী আরও জানান, অনেক কষ্টে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে লক্ষণপুর বাজারের নৈশপ্রহরী ওলিয়ারের মাধ্যমে ১৫ পিস ইয়াবা সংগ্রহ করেন। পরে শুক্রবার রাতে পুলিশ কর্মকর্তাকে তাঁদের বাড়িতে ডেকে ইয়াবাগুলো তাঁর হাতে দেন। কিন্তু ইয়াবাগুলো হাতে নিয়ে ওই কর্মকর্তা সেগুলোকে ‘দুই নম্বর ইয়াবা’ বলে মন্তব্য করেন এবং কে দিয়েছেন, তা জানতে চান বলে দাবি করেন হযরত আলী। এ সময় তিনি ওলিয়ারের নাম বললে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে তাঁর অভিযোগ।

ওলিয়ারকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির টু-আইসি এএসআই আজমল হুদা মিঠু বলেন, আসামি ধরলে অনেক কথাই বলে। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না উল্লেখ করে বলেন, সবকিছু ফাঁড়ির আইসি সাহেব জানেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আনিছুর রহমান আনিছের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, গোড়পাড়া ফাঁড়ির পুলিশ ১৩ পিস ইয়াবাসহ ওলিয়ার নামে একজনকে আটক করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে এবং শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়ে থাকলে তাঁর স্বজনেরা অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।