• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

খুলনা বিভাগে কলেজ পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত ড. মুসাফির নজরুল


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন / ৩৭
খুলনা বিভাগে কলেজ পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত ড. মুসাফির নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাগুরাঃ আগামী ৫ অক্টোবর ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া-২০২৬’-এ কলেজ পর্যায়ে খুলনা বিভাগের ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত হয়েছেন ড. নজরুল ইসলাম (মুসাফির নজরুল)। একই প্রতিযোগিতায় তিনি মাগুরা জেলা এবং শ্রীপুর উপজেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন।

​তিনি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জি. কে. আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমির একজন সম্মানিত সদস্য।
​শিক্ষাজীবন ও উচ্চতর গবেষণা

ড. মুসাফির নজরুল ১৯৯০ সালে এসএসসি, ১৯৯২ সালে এইচএসসি, ১৯৯৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বিভাগোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে প্রতিফলিত সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য এম.ফিল এবং ২০২১ সালে ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে প্রতিফলিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার স্বরূপ’ শীর্ষক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন।

​কর্মজীবন, সম্পাদনা ও সাংবাদিকতা ২০০১ সালে জি. কে. আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। অধ্যাপনার পাশাপাশি নব্বই দশকের মধ্যভাগ থেকেই তিনি সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ছোটকাগজ ‘পিঙ্গল’-এর উপদেষ্টা সম্পাদক, ‘লিহিনা’র সম্পাদক ও সাপ্তাহিক ‘যায় বেলা যায়’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও সাময়িকীতে তাঁর দুই শতাধিক অনুবাদ, গবেষণা প্রবন্ধ, কবিতা ও ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ২০১৩ সাল থেকে শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
​প্রকাশিত গ্রন্থ ও সাহিত্যকর্ম তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
​উপন্যাস: ‘শেষ দেখা বেলা’ (১৯৯৮), ‘বিশ্বাসের বেসাতি’ (১৯৯৯)।
​কাব্যগ্রন্থ: ‘নব্বই দশকের প্রেমের পদাবলী’ (১৯৯৯)।
​গবেষণা গ্রন্থ: ‘বিভাগোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে প্রতিফলিত সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা’ (২০০৯) ও ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে প্রতিফলিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার স্বরূপ’ (২০২১)।

​অন্যান্য: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদিত গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে শ্রীপুর’ (২০১৭), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক কালজয়ী উপন্যাসের ভূমিকা ও সংকলন এবং মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক ও ব্যাকরণ বই।
​সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবদান

অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি সরকারি নিবন্ধিত সংগঠন ‘মানব উন্নয়ন সংসদ’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বে ঢাকার ‘তরঙ্গ নাট্যগোষ্ঠী’ ও ‘উপমা নাট্য সংসদ’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘তারাউজিয়াল উত্তরপাড়া জামে মসজিদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি, শ্রীপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা এবং ২০টিরও বেশি নাটক ও যাত্রাপালার নির্দেশনা ও অভিনয়ে যুক্ত ছিলেন।

​পুরস্কার ও সম্মাননা শিক্ষাকতা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অনুবাদ সাহিত্যে ‘নবগঙ্গা সাহিত্যগোষ্ঠী সম্মাননা পদক ২০০৮’, সাংবাদিকতায় ‘আট-ই ফাল্গুণ স্মৃতি সংসদ সম্মাননা পদক ২০০৯’, জেলা প্রশাসক পদক-২০২৪ এবং মাগুরা সাহিত্যিক কল্যাণ পরিষদ সম্মাননা পদক-২০২৪ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ২০১৮, ২০১৯, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ নির্বাচিত হন।