নিজস্ব প্রতিবেদক, মাগুরাঃ আগামী ৫ অক্টোবর ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া-২০২৬’-এ কলেজ পর্যায়ে খুলনা বিভাগের ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত হয়েছেন ড. নজরুল ইসলাম (মুসাফির নজরুল)। একই প্রতিযোগিতায় তিনি মাগুরা জেলা এবং শ্রীপুর উপজেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন।
তিনি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জি. কে. আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বাংলা একাডেমির একজন সম্মানিত সদস্য।
শিক্ষাজীবন ও উচ্চতর গবেষণা
ড. মুসাফির নজরুল ১৯৯০ সালে এসএসসি, ১৯৯২ সালে এইচএসসি, ১৯৯৫ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘বিভাগোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে প্রতিফলিত সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য এম.ফিল এবং ২০২১ সালে ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে প্রতিফলিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার স্বরূপ’ শীর্ষক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন।
কর্মজীবন, সম্পাদনা ও সাংবাদিকতা ২০০১ সালে জি. কে. আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। অধ্যাপনার পাশাপাশি নব্বই দশকের মধ্যভাগ থেকেই তিনি সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ছোটকাগজ ‘পিঙ্গল’-এর উপদেষ্টা সম্পাদক, ‘লিহিনা’র সম্পাদক ও সাপ্তাহিক ‘যায় বেলা যায়’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও সাময়িকীতে তাঁর দুই শতাধিক অনুবাদ, গবেষণা প্রবন্ধ, কবিতা ও ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ২০১৩ সাল থেকে শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ ও সাহিত্যকর্ম তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
উপন্যাস: ‘শেষ দেখা বেলা’ (১৯৯৮), ‘বিশ্বাসের বেসাতি’ (১৯৯৯)।
কাব্যগ্রন্থ: ‘নব্বই দশকের প্রেমের পদাবলী’ (১৯৯৯)।
গবেষণা গ্রন্থ: ‘বিভাগোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে প্রতিফলিত সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা’ (২০০৯) ও ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে প্রতিফলিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার স্বরূপ’ (২০২১)।
অন্যান্য: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদিত গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধে শ্রীপুর’ (২০১৭), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক কালজয়ী উপন্যাসের ভূমিকা ও সংকলন এবং মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক ও ব্যাকরণ বই।
সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবদান
অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি সরকারি নিবন্ধিত সংগঠন ‘মানব উন্নয়ন সংসদ’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বে ঢাকার ‘তরঙ্গ নাট্যগোষ্ঠী’ ও ‘উপমা নাট্য সংসদ’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘তারাউজিয়াল উত্তরপাড়া জামে মসজিদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি, শ্রীপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা এবং ২০টিরও বেশি নাটক ও যাত্রাপালার নির্দেশনা ও অভিনয়ে যুক্ত ছিলেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা শিক্ষাকতা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অনুবাদ সাহিত্যে ‘নবগঙ্গা সাহিত্যগোষ্ঠী সম্মাননা পদক ২০০৮’, সাংবাদিকতায় ‘আট-ই ফাল্গুণ স্মৃতি সংসদ সম্মাননা পদক ২০০৯’, জেলা প্রশাসক পদক-২০২৪ এবং মাগুরা সাহিত্যিক কল্যাণ পরিষদ সম্মাননা পদক-২০২৪ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ২০১৮, ২০১৯, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ নির্বাচিত হন।