• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৪ Jun ২০২৪, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এই শেখ আজগর আলী নস্কর


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৩১, ২০২৩, ৩:৩৬ অপরাহ্ন / ১১৪০
বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক কে এই শেখ আজগর আলী নস্কর

বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকাঃ বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে এই শেখ আজগর আলী নস্কর। তার স্থায়ী ঠিকানা দেখানো হয়েছে পিতা মৃত্যুঃ ইদ্রিস আলী, গ্রামঃ গাজীগড় বিহারী কলোনী, পোস্টঃ মোজাহিদাবাদ, উপজেলাঃ রানী শংকৈল, জেলাঃ ঠাকুর গাঁও। তিনি একজন বিহারী ঘরের সন্তান।

ছয় ভাই এক বোনের ভেতর শেখ আজগর আলী নস্কর পাঁচ নম্বর সন্তান। তার অন্যান্য ভাই-বোনরা হলেন, আব্বাস আলী, কুদ্দুস আলী, আশরাফ আলী, আজগর আলী, আক্কাস আলী, লাল মিয়া এবং বোন রওশন আরা। নামের আগে বা পরে কোন ভাই শেখ পদবী না লাগালেও নব্য এই আওয়ামী নেতা নিজেকে দলের কাছে জাহির করার জন্য তার নামের আগে শেখ লাগিয়েছেন। তার নামের ব্যাপারেও নানা জনশ্রুতি রয়েছে।

ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায়, মাত্র অষ্টম শ্রেণি পযর্ন্ত লেখাপড়া করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী মৎসজীবি লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর আলী নস্কর। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করা এই কেন্দ্রীয় নেতা অল্পদিনে এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। রাজধানীতে কিনেছেন কয়েকটি ফ্লাট ও গাড়ি।

বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর আলী নস্করের কর্ম, দাম্পত্য ও রাজনীতিঃ জীবনের শুরুতেই মটর গ্যারেজের হেল্পার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। অল্প কিছু দিন ট্রাক ড্রাইভারের কাজ করেন তিনি এবং পরবর্তীতে তিনি ঠাকুরগাঁও এর এক স্থানীয় যুবলীগ নেতার হত্যা মামলায় আসামী হিসাবে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে খাটেন দীর্ঘদিন। এ সময় জেলখানায় অন্য আসামীকে দেখতে আসা দর্শনার্থী দিনাজপুরের মিনা মেহের নামে অনার্স পড়ুয়া এক ছাত্রীর সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে শেখ আজগর আলী নস্করের। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালে ১১ বছর জেল খেটে বের হয়ে ১৯৯৬ সালে ওই প্রেমিকা মিনাকে বিয়ে করে চলে আসেন রাজধানী শহর ঢাকায়।

রাজধানীর খিলগাঁও এ একটি স’মিলে (করাতকল) চাকুরী নেন শেখ আজগর আলী নস্কর এবং এক পর্যায়ে ওই স’মিলে কাজ করা অবস্থায় ক্ষুদ্র কাঠের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। কাঠের ব্যাবসার সুবাধে এক আদম বেপারীর সাথে পরিচয় হয় শেখ আজগর আলী নস্করের। পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই আদম ব্যাপারির মাধ্যমে শেখ আজগর আলী নস্কর শুরু করেন আদম ব্যবসা। আস্তে আস্তে আদম ব্যবসার অন্তরালে শুরু করেন হুন্ডি ব্যবসা। তারপর আর পিছনে দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি শেখ আজগর আলী নস্করকে।

অবৈধ ব্যাবসার মাধ্যমে খুব অল্পদিনে কোটিপতি বনে যান শেখ আজগর আলী নস্কর। সে সময়ে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ছোট্ট ঝুপড়ি বস্তি বাসা পরিবর্তন করে তিনি বসবাস শুরু করেন বসুন্ধরার আবাসিক এলাকায়। শেখ আজগর আলী নস্কর ব্যবসার প্রয়োজনে সব সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে রাখতেন সুসম্পূর্ক।

ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে তার বড় ভাই আব্বাস আলী শেখ আজগর আলী নস্করের বিষয়ে স্বাক্ষাতকার দিয়েছেন বলে জানা যায়। ওই স্বাক্ষাতকারে শেখ আজগর আলী নস্করের বড় ভাই আব্বাস আলী নিজেই বলেছেন বিএনপির জিয়া পরিবারের সাথে ছিল তাদের অত্যন্ত সুসম্পূর্ক। সেই সূত্র ধরে বড় ভাইয়ের হাত ধরেই বিএনপির বড় বড় নেতাদের বাসায় যাতায়াত ছিল শেখ আজগর আলী নস্করের। অর্থাৎ শেখ আজগর আলী নস্কর ও তার পুরো পরিবারই বিএনপি ঘরোনার বলে জানান এলাকাবাসী।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরে নিজের ভোল পাল্টে মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতির পদে নাম লেখান শেখ আজগর আলী নস্কর। যদিও সে সময় কোন দলীয় কর্মসূচিতে তেমন দেখা মিলতো না শেখ আজগর আলী নস্করের। ২০১৬ সালের মৎস্যজীবী লীগের কাউন্সিলে মোটা অংকের টাকা পয়সার জোগান দিয়ে নেতৃত্বের স্বাধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লাগেন শেখ আজগর আলী নস্কর।

রাজধানীর ফকিরাপুলে আবাসিক হোটেল ব্যবসার অন্তরালে নারী ব্যাবসার পাশাপাশি অফিস নিয়ে বিভিন্ন কৌশলে নেতাদের সান্নিধ্য পেতে শুরু করেন তিনি। এ সময় নারী ও মোটা অংকের টাকা বড় বড় নেতাদের কাছে পাঠাতেন উপঢৌকন হিসাব। সুযোগ বুঝে এবং বিভিন্ন নেতাদের বাগে ফেলে ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বরে জাতীয় সম্মেলনে মৎস্যজীবী লীগের সাধারন সম্পাদকের পদটি বাগিয়ে নেন সুচতুর শেখ আজগর আলী নস্কর।

ব্যাপক তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ওই পদে যেতে নাকি তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০/১২ কোটি টাকা। যাহা তিনি নিজ মুখে অনেক সময় নেতা-কর্মীদের সামনে খুব দাম্ভিকতার সুরে বলে থাকেন।

সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব নেবার পর পরই ক্ষমতা ও টাকার গরমে কঠিন ভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেন শেখ আজগর আলী নস্কর। নেতা হবার সুবাধে পুরাতন অভ্যাস মদ, নারীসহ নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন শেখ আজগর আলী নস্কর। তার স্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরে বিভিন্ন অপকর্মের বিরোধীতা করেন।

এ সব ঘটনার কারনে  এক পর্যায়ে ২০২১ সালে জোর করে স্ট্যাম্প পেপারে তার নিজ স্ত্রীকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেন এবং ভার্সিটি পড়ুয়া সন্তানদের কথা উপেক্ষা করে স্ত্রীকে জোরপূর্বক তালাক দিয়ে বাসা থেকে মারধোর করে বের করে দেন শেখ আজগর আলী নস্কর।

সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়ে আরো দ্বিগুণ বেপরোয়া হয়ে উঠেন শেখ আজগর আলী নস্কর। বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগ সংগঠনটির কাজ শুরু করেন জেলা ও উপজেলায় কমিটি বানিজ্যের মাধ্যমে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জামায়াত-শিবির, বিএনপিসহ অনেক বিতর্কিতদের সংগঠনে স্থান করে দেন শেখ আজগর আলী নস্কর। সেই সুবাদে ২০২২ সালে মোটা অংকের বিনিময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর মৎস্যজীবী লীগের কাউন্সিলে ১১১ হত্যা মামলার আলোচিত আসামী দেলোয়ারকে সভাপতি করেন শেখ আজগর আলী নস্কর। সে সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনায় অধিক সমালোচিত হন শেখ আজগর আলী নস্কর।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ আজগর আলী নস্করের সকল দুর্নীতি, অর্থ বানিজ্য, নারী কেলেঙ্কারিসহ অন্যান্য সকল ঘটনা তদন্তের জন্য মাঠে নেমেছে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও কয়েকটি সাংবাদিক টীম।

(চলবে)