• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

মধ্যনগরে কৃষকের আর্তনাত প্রকৃতি গ্রাস করলো বৈশাখের বোরো ধান


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ন /
মধ্যনগরে কৃষকের আর্তনাত প্রকৃতি গ্রাস করলো বৈশাখের বোরো ধান

এম এ মান্নান, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের হাওর বেষ্টিত ধানের ভান্ডার খ্যাত মধ্যনগর উপজেলার কৃষকের বোরো ফসল শেষ রক্ষা পায়নি প্রকৃতির কালো মেঘের থাবা থেকে। হাওরের বাঁধ ভেঙে পানির নিচে ধান। লাখো কৃষক দরিদ্র হওয়ার শঙ্কা। অনেক কৃষক সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার সম্ভাবনা।

মার্চের শুরুতেই বৃষ্টির আগমন ঘটে, লাগাতার অতি বৃষ্টির কারণে মার্চ মাসের শেষের দিকে ৩৫ শতাংশ নিচু জমির কাঁচা ধান ভারী বৃষ্টিপাতে টেবলার পানিতে তলিয়ে যায়। সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির সোনার ফসল রক্ষা করতে, প্রতিটি হাওরে শত-শত সেচ মেশিন বসিয়ে হাজার হাজার লিটার ডিজেল পুরিয়ে পানি সেচ করেন কৃষকরা। কিন্তু ভারী বর্ষণের কারণে সেচ কাজেও সফল হতে পারেননি কৃষকরা, প্রকৃতির কাছে হার মানতে হলো তাদের। তাছাড়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের বৃথা চেষ্টায় কোনো লাভ তো হয়নি হাওরের,বরং অনাকাঙ্ক্ষিত মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে,বাঁধের মাটি ধ্বসে মাটি ছাপায় পড়ে মোঃ আরমান নামের এক যুবকের দিতে হয়েছে তাজা প্রাণ।

অবশেষে নিচু জমির ধান রক্ষা করার হাল ছেড়েদেন কৃষকরা। উঁচু জমির ধান কাটার চেষ্টায় থাকেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কিন্তু হাওরে প্রচুরপরিমানে হারভেস্টার মেশিন থাকলেও, জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়, এবং জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে হারভেস্টার মেশিন অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়াও শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কর্তনে ধীরগতি দেখা দেয়। তাছাড়া কৃষক আশায় বুক বেধে ছিল দেখা মিলবে রোদের। অথচ লাগাতার বৃষ্টি তো আছেই, রোদের দেখা মিলেনি একমাসেও।

পরিশেষে এপ্রিলের শেষের দিকে ২৩ এপ্রিল সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো কতৃক আবহাওয়ার পূর্বাভাসের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। কতৃপক্ষের নিদর্শনায় আগাম বন্যার পূর্বাভাস উল্লেখ করে সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছ ২৮ এপ্রিলের আগেই হাওর অঞ্চলের সব ধান দ্রুত কর্তন করতে হবে। এতে কৃষকরা তাড়াহুড়ো করে আরও ৩৫ শতাংশ উঁচু জমির ধান কাটলেও, রোদের অভাবে পচন ধরে নষ্ট হয়ে গেছে ঐ ধান গুলি।

কিন্তু আবহাওয়া বার্তার ২৮ তারিখে আগেই, ২৫ এপ্রিল থেকেই শুরু হয় ঝড় বৃষ্টি বজ্রপাত। ২৮ তারিখেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যায় একাধিক হাওরের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় ধান। কৃষকের সম্বল বাকী ৩০ শতাংশ পাকা ধান ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে কাল বৈশাখের বৃষ্টির পানিতে। সারা বছরের পরিশ্রম,ঘাম,জমি চাষাবাদের খরচ এবং হাজারটা স্বপ্ন। হাড়ভাঙা কষ্ট এখন শুধুই কৃষকের আর্তনাত। একমাত্র ফসল হারিয়ে কৃষকের আহাজারি আর বোবা কান্নায়, ভারী হয়ে গেছে হাওর জুড়ে আকাশে বাতাসে। এ অবস্থায় দুর্যোগপূর্ণ বিপজ্জনক এবছরের বৈশাখের ফসল হারানোর যন্ত্রণা,আর কৃষকের বুক ভরা দুর্ভিক্ষের আর্তনাত কি- শোনবেন রাষ্ট্রের বাহাদুর।

ইতিমধ্যেই সুনামগঞ্জ ১ আসনের এম পি কামরুজ্জামান কামরুল সাংবাদিকদের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,আমি সাংসদ অধিবেশন চলমান থাকা সত্যেও ,আমি ছুটি নিয়ে আমার দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় কৃষকের পাশে আছি। ইতিমধ্যে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছি, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়ে, ডি সি সাহেব ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবো। তাছাড়া সরকারের কতৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা সরজমিনে ঘুরে হাওর, গ্রাম ও কৃষকের দৃশ্য মান ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করে, যথাযথ উদ্যোগ নিবেন। এরমাঝে মধ্যনগরবাসী রাষ্ট্রের কাছে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবী করছেন।