

এম রোমানিয়াম, বুরো প্রধান, খুলনাঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন কালজয়ী গান ‘আমার সোনার বাংলা’। পরবর্তীতে এই গানই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বারবার প্রচারিত এ গান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
আজ ২৫ বৈশাখ, বিশ্বকবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ (৭ মে ১৮৬১) ব্রিটিশ ভারতের কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদাসুন্দরী দেবী। তিনি ছিলেন তাঁদের চতুর্দশ সন্তান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং তৎকালীন পূর্ববঙ্গের শাহজাদপুর ও পতিসরে কৃষকদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ তাঁর বহুমাত্রিক চিন্তা ও মানবকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ (৭ আগস্ট ১৯৪১)।
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রতিদিন থাকবে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকমেলা।
উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ব Mamunur Rashid। এছাড়া বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান। সভাপতিত্ব করবেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। স্মারক বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন Khulna University-এর সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান।
দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। প্রধান অতিথি থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা এবং Khulna Press Club-এর সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার। স্মারক বক্তৃতা করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আনিস-আর-রেজা। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচি রানী সাহা।
সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগের খুলনার উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আলী আজগার টগর। বিশেষ অতিথি থাকবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল। স্মারক বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচি রানী সাহা।
ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচি রানী সাহা জানান, তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন :