• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চেয়ারম্যানের ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা মেয়ের জীবন- যাপন ছিলো উশৃঙ্খল


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন / ০
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চেয়ারম্যানের ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা মেয়ের জীবন- যাপন ছিলো উশৃঙ্খল

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী (কালু) ‘র ছেলে আরিফিন চৌধুরীর নামে ধর্ষণ মামলা করা নায়ার সুলতানা মিতার জীবন-যাপন ছিলো বেপরোয়া ও উশৃঙ্খল।

ধর্ষণ মামলার সংবাদ সংগ্ৰহের অনুসন্ধানে সরেজমিনে একাধিকবার গিয়ে টিএডি গ্ৰামসহ কুশলা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মানুষের সাথে কথা বলে এমনটাই তথ্য পেয়েছে গণমাধ্যমকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০-এর অধিক এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, নায়ার সুলতানা মিতার পিতার নাম আবু জাফর সেরনিয়াবাত। তিনি অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য, বর্তমানে অসুস্থ এবং মস্তিষ্ক বিকৃত। মাঝে মধ্যে তিনি পাগল হয়ে যান। বয়স্ক ভাতা ও বাজার ঘাটে ঘুরে ফিরে ভিক্ষার টাকায় উপার্জিত অর্থে তার খাওয়া পরা চলে। টিএডি গ্ৰামে রাস্তার পাশে একাই একটি দোচালা টিনের ঘরে বসবাস করেন তিনি। তার দুইটি মেয়ে, একটি ছেলে। স্ত্রীর সঙ্গে অনেক বছর আগেই বিচ্ছেদ হয়েছে। আবু জাফর সেরনিয়াবাতের ছেলেটির কোন খোঁজখবর নেই।

ছোট মেয়ের বিয়ে হওয়ার পর শশুর বাড়িতে সংসার করছে। আর বড় মেয়ে নায়ার সুলতানা মিতা কুশলা বাজার, কোটালীপাড়া ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফিরে উশৃঙ্খল ও বেপরোয়া ভাবে জীবন-যাপন করছে। এখন কালু চেয়ারম্যানের ছোট ছেলে আরিফিন চৌধুরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষন মামলা দিয়েছে। মামলা খেয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে এলাকা ছাড়া হয়েছে।

পূর্বেও এই মিতাকে পারিবারিক ভাবে বিবাহ দেওয়া হয়েছিলো। শ্বশুরবাড়ি থেকে বেপরোয়া চলাফেরা ও অসদাচরণের জন্য বিতাড়িত হয়েছে। পরে কৌশলে নিজের বাবার শেষ সম্বল ১০ কাঠা জায়গা নিজের নামে লিখে নিয়েছে এই নায়ার সুলতানা মিতা।

বর্তমানে নায়ার সুলতানা মিতা গোপালগঞ্জ শহরে ভাড়া বাড়িতে থেকে বিভিন্ন ধরনের অশালীন কাজ করে বেড়ান বলেও জানান তারা।

প্রতিবেশী মহিউদ্দিন ফকির সাংবাদিকদের জানান, আবু জাফর সেরনিয়াবাত বয়স্ক ও অসুস্থ তার নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্ক ভাতা করে দেওয়া হয়েছিলো। গত এক বছর যাবৎ নায়ার সুলতানা মিতা তার বাবার কাছ থেকে জোর করে ভাতার টাকা জমা হওয়া সিম কার্ডটি জোর করে নিয়ে টাকা উত্তোলন করে ভোগ করছেন। মেয়েটি তার অসুস্থ পিতার কোন দায়িত্ব কর্তব্য পালন করছে না। সে অবাধ্য ও বেপরোয়া একটা মেয়ে।

এ বিষয়ে ধর্ষন মামলার আসামির পিতা ও কুশলা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী (কালু) বলেন, তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। কুশলা বাজারে তাঁর একাধিক দোকান রয়েছে ওই দোকানগুলো নিজেদের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। ওই উছশৃংখল ও বেপরোয়া মেয়েকে আমার চাচাতো ভাই তাপস চৌধুরীর স্ত্রী রিমা বেগম সহযোগিতা করে আমার ছেলের পিছনে লেলিয়ে দিয়েছে। এখন ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী নায়ার সুলতানা মিতার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাক্ষাৎ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন তার ভাতিজা তাপস চৌধুরীর স্ত্রী রিমা বেগমের সাথে কথা বলতে গণমাধ্যমকর্মীরা জাহাঙ্গীর নামের স্থানীয় মুরুব্বি ও রিমা বেগমের আত্মীয়কে সাথে নিয়ে গত রোববার (২৪) অক্টোবর দুপুরে তাদের বাড়িতে গেলে রিমা বেগম বসত ঘরের দুই পাশের দরজা বন্ধ করে দিয়ে শিশু বাচ্চাদের নিয়ে ভিতরে অবস্থান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে ডেকেও কোন সাড়া না পেয়ে পরে গণমাধ্যমকর্মীরা জেলা শহরে ফিরে আসেন।

উল্লেখ্য, নায়ার সুলতানা মিতা কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে আরিফিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ তুলে কোটালীপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।