• ঢাকা
  • সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন

উলাশীর জিয়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ন / ৫২
উলাশীর জিয়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় দীর্ঘ পাঁচ দশকের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

​সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন। উল্লেখ্য, ঠিক পাঁচ দশক আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর এই স্থানেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। বাবার সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে দাঁড়িয়েই আজ প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের আধুনিকায়নের দায়িত্ব নিলেন।

​উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:​আজকের দিনটি শুধু শার্শাবাসীর জন্য নয়, আমার পরিবারের জন্য এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসের জন্যও এক আবেগঘন মুহূর্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখান থেকেই মাটি ও মানুষের ভাগ্য বদলের ডাক দিয়েছিলেন। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর আমরা সেই অগ্রযাত্রাকে আধুনিক ও টেকসই রূপ দিতে কাজ শুরু করছি।​আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে একটি সবুজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করা। দেশব্যাপী নদী-নালা ও জলাধার পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা কেবল জলাবদ্ধতা দূর করছি না, বরং কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা এবং মৎস্য চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছি। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে চাষযোগ্য করে তুলতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।

​বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি আধুনিক পদ্ধতিতে খনন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের কয়েক হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

​এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। বিমানবন্দর থেকে শার্শা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দু’পাশে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে স্লোগান ও ফুল ছিটিয়ে তাদের নেতাকে বরণ করে নেন। নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি আর সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় পুরো যশোর জেলা এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

​প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তার সাথে ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

​বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম যশোর সফর হওয়ায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সফর শেষে আজ সন্ধ্যায় তার আকাশপথে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।