• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন

শার্শায় একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, বাড়িঘর ভাঙচুরসহ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ন / ৬
শার্শায় একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, বাড়িঘর ভাঙচুরসহ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ

আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার সোনানদীয়া গ্রামে জমি দুইবার বিক্রিকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি বিদেশি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন সোনানদীয়া গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), তাঁর স্ত্রী জোহরা খাতুন (৪০), ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৫) ও পুত্রবধূ জুঁই খাতুন (২০)।

পরিবারের স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর ডান হাতের কবজি, মাথা ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আহত জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, ২০১৮ সালে তিনি সোনানদীয়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে তহিদুলের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকায় বসতভিটার ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। এরপর থেকে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, বিক্রি করা জমির সামনের অংশ থেকে ০.৭৫ শতাংশ জমি তহিদুল গোপনে গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী আসমা বেগমের কাছে বিক্রি করে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি একই জমি দুইবার বিক্রির প্রতিবাদ করলে তহিদুল তাঁকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, বুধবার বেলা ১১টার দিকে গ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে আসাদুজ্জামান এবং মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে তহিদুলের নির্দেশে একদল ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান।

অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন রনি আহম্মদ (৩০), সজিব হোসেন (৩০), টুটুল হোসেন (৩৫), শাকিল হোসেন (২৮), নূরনবী (২০), তপু হোসেন (২৭), মিন্নু হোসেন (৩০) ও সামাউল (২০)। এ ছাড়া আরও ১০ থেকে ১২ জন হামলায় অংশ নেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র, রামদা, হাতুড়ি, বল্লম, লোহার রড ও মোটরসাইকেলের ড্যাম্পার ছিল। তাঁরা বাড়িতে ঢুকে তাঁকে, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূকে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে স্বজনেরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আহত উজ্জ্বল হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। তাঁর মা ও স্ত্রীর জন্য বিদেশ থেকে আনা ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, বাড়িতে রাখা নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং একটি বিদেশি মোবাইল ফোন হামলাকারীরা নিয়ে গেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁদের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। হামলা ঠেকাতে এগিয়ে এলে প্রতিবেশী তাইজুল ডাক্তারের বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

উজ্জ্বল হোসেনের ভাষ্য, হামলার পর নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রনি আহম্মদ নিয়মিত অস্ত্র বহন করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একাধিক মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নূরনবীর বিরুদ্ধে সোনানদীয়া ভাটার মোড়ে মাদক ব্যবসার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিউল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীরা মামলা করলে বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে কি না এবং অভিযুক্তদের কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।