

খুলনা ব্যুরোঃ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব বাহাদুর মুন্সি।
তাঁর দাবি, জমিসংক্রান্ত বিরোধকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মসজিদ, মন্দির ও বাজার কমিটির কয়েকজন নেতা।
বাহাদুর মুন্সির দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির পরিবর্তে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বাহাদুর মুন্সি প্রায় চার বছর ধরে বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ১ নম্বর জলমা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে।
তাঁর ভাষ্য, বিগত ১৭ বছর রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে বাহাদুর মুন্সির বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এজাজুর রহমান শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খন্দকার। এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের নেতারাও বাহাদুর মুন্সির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। চক্রাখালী গজালমারী সার্বজনীন দুর্গামন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় রায় বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে বাহাদুর মুন্সির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো দুঃখজনক।
চক্রাখালী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম বিশ্বাসের দাবি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বাজারের নিরাপত্তা রক্ষায় বাহাদুর মুন্সির অনুসারীরা ভূমিকা রেখেছিলেন। সে সময় বাহাদুর মুন্সি কারাগারে থাকলেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেন বলে তিনি জানান। বাজারের সাতটি দোকান দখলের অভিযোগও তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
চক্রাখালী মোড়ের বায়তুল মামুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে তিনি বাহাদুর মুন্সিকে মানুষের উপকার করতে দেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানান তিনি।
জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পান্নু মিয়া দাবি করেন, তেঁতুলতলা এলাকার মরিয়মের ২৫ শতক জমি দখলের অভিযোগসহ বাহাদুর মুন্সির বিরুদ্ধে উত্থাপিত কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগগুলোর যথাযথ যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
জমির মালিকানা নিয়ে বাহাদুর মুন্সির বক্তব্যঃ বটিয়াঘাটার রাঙ্গেমারী এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বাহাদুর মুন্সি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে তিনি আট শতক জমি কিনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দলিল ও খতিয়ানের ভিত্তিতে জমির দখল বুঝে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, জমির রেকর্ড, খাজনার দাখিলা ও অন্যান্য কাগজপত্র তাঁর অবস্থানকে সমর্থন করে।
অন্যদিকে, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ ইমাম হাসান বাচ্চুর ছেলে ইসতিয়াক হাসান ও তাঁর মা নাছিমা হাসান জমি দখলের চেষ্টা এবং স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছেন বলে জানা গেছে। বাহাদুর মুন্সি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, আলোচনা করে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।
বাহাদুর মুন্সি আরও জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা জমিটি তাঁর ক্রয়কৃত এবং তাঁর দখলে রয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তবে এ বিষয়ে আদালতের নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাহাদুর মুন্সির বক্তব্য, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট দলিল, রেকর্ড ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করে আইনগতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অন্য পক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট জমির মূল দলিল ও আদালতের নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :