

রাজিবুল ইসলাম রাজিব, খুলনাঃ গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুলের সাতটি ডিসিপ্লিনের সাত শিক্ষককে ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণা কর্মের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ইয়ামিন কবীর, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক সাধন চন্দ্র স্বর্ণকার, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. অলোকেশ কুমার ঘোষ, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ইফতেখার শামস, ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম এবং সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিল্টন হালদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো মৌলিক গবেষণা পরিচালনা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে এগিয়ে যাচ্ছে। বড় পরিসরে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি হিটের আটটি প্রকল্প পেয়েছে। এ সময় তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, প্রতিটি গবেষণার সঙ্গে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণার পথে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও এ ধরনের পুরস্কার গবেষকদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো গবেষণায় উৎসাহ জোগাবে। এ সময় তিনি উন্নত দেশগুলোতে গবেষণার পরিবেশ ও গবেষকদের অনুপ্রাণিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান।
বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, যেকোনো স্বীকৃতি গবেষকদের জন্য আনন্দ ও অনুপ্রেরণার বিষয়। জীববিজ্ঞান স্কুলের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। গবেষণার কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই; বরং গবেষণার মাধ্যমেই নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনের পথ উন্মোচিত হয়। এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নবীউল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাঁদের গবেষণাকর্ম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
এদিকে, জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অর্জন করায় একই অনুষ্ঠানে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসানকে জীববিজ্ঞান স্কুলের পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানা এবং ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রভাষক নওরিন আহসান হাবিব। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, জীববিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ডিসিপ্লিনের প্রধান, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :