

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জে ইমাম রেজা (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপালগঞ্জের করপাড়া ব্রিজসংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনায় ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁদের দাবি, দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করেন এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা নেই। এ সময় তাঁরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ধানের মিলের ঘর থেকে ইমাম রেজার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরটির জানালার সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বৌলতলী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ইমাম রেজার পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়া হয়। সেখানে করপাড়া ইউনিয়নের ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারের নামও উল্লেখ করা হয়। এর প্রতিবাদে তাঁদের পরিবার ও করপাড়া ইউনিয়নের সাধারণ এলাকাবাসী এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মানববন্ধনে ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারের বোন ডালিম খন্দকার বলেন, “আমার ভাই ইয়াহিয়া খন্দকার ঢাকায় শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেডে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করেন। ঘটনার দিনও তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন।”
এ সময় তিনি তাঁর ভাইয়ের চাকরি ও দায়িত্ব পালনের সময়সংক্রান্ত বিভিন্ন রেজিস্টার এবং প্রমাণপত্র গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন বলে জানান। ডালিম খন্দকারের অভিযোগ, তাঁর ভাইদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইমাম রেজা নামের ১৮ বছর বয়সী ছেলেটিকে আমরা চিনিও না, জানিও না। তবে তাঁকে যদি হত্যা করা হয়ে থাকে, তাহলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন করপাড়া ইউনিয়নের রহিস মুন্সী। তিনি বলেন, ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করেন এবং এলাকায় থাকেন না। তাঁর দাবি, ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের জড়ানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
রহিস মুন্সী আরও বলেন, কারা ইমাম রেজার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা হোক। নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়। আমরা এ ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা ইমাম রেজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ইমাম রেজার মৃত্যুর ঘটনায় ইয়াহিয়া খন্দকার ও ছোটন খন্দকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এবং তাঁদের বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :