• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

বিলের কচুরিপানায় কিশোরের লাশ, পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার কারণ, গ্রেফতার ২


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ন / ৫
বিলের কচুরিপানায় কিশোরের লাশ, পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো হত্যার কারণ, গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদীঃ নরসিংদীর রায়পুরায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য ১৬ বছর বয়সী চালক মনির হোসেনকে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার চারটি ব্যাটারিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–নরসিংদীর রায়পুরার আসাদ মিয়া ওরফে এরশাদ (৩৮) ও জাহিদুল মিয়া (৩০)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিবিআই নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত বুধবার বিকালে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাগপাড়া এলাকার বুরুজেরটেক থেকে আসাদকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লার লালমাই বাজারসংলগ্ন আইটি পার্ক এলাকা থেকে জাহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআইয়ের দেওয়া অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে মনির হোসেন অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা শাহআলম মিয়া ২৭ সেপ্টেম্বর রায়পুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে ৫ অক্টোবর সকালে রায়পুরার আদিয়াবাদ শিকদারপাড়া এলাকার দরগাবাড়িসংলগ্ন একটি বিলের কচুরিপানার মধ্যে একটি লাশ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মনিরের বলে শনাক্ত করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মনিরকে তার প্যান্টের বেল্ট দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বিলের পানিতে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর রায়পুরা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা হয়। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই নরসিংদী জেলা। পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত এবং অটোরিকশার বাকি যন্ত্রাংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।