

আলী আহসান রবি, ঢাকাঃ বাংলাদেশের মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমাইউন কবির আজ সিউলে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের (আরওকে) বাণিজ্য, শিল্প ও সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য আলোচনা বিষয়ক উপমন্ত্রী মিস হেজিন কোওন এবং কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা)-র শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পৃথক বৈঠক করেছেন।
বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশ-আরওকে সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপর আলোকপাত করা হয়।
উপমন্ত্রী কোওনের সাথে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহের ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও শিল্প উন্নয়নে কোরিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন।
প্রতিমন্ত্রী ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ)-এর সফল সমাপ্তিকে স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এটি কোরিয়া ও আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের আরও গভীরভাবে একীভূত হওয়ার একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফরকালে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ওপর আলোকপাত করে প্রতিমন্ত্রী কোরিয়ায় বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়াতে এবং পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য ও খাদ্যপণ্যের জন্য খাদ্য-নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং সঙ্গরোধ পদ্ধতি সহজ করারও অনুরোধ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য কোরিয়ার সমর্থন চেয়েছেন এবং বৃহত্তর কোরীয় বিনিয়োগকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি কোরীয় বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলোকে যৌথ বিনিয়োগ উন্নয়ন এবং সরকার-থেকে-সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ করতে উৎসাহিত করেছেন।
উপমন্ত্রী কোওন বাংলাদেশ-কোরিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সিইপিএ কাঠামোসহ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কোরিয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কইকা-র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিস দোহ ইয়ং-আ-র সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী অনুদান সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কইকা-র দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেছেন। তিনি ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘সাইমাউল প্লাস দারিদ্র্য নির্মূল কর্মসূচি’-র জন্য কইকা-কে ধন্যবাদ জানান এবং পানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য খাতে আরও সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল গণসেবাসহ বৃহত্তর, সমন্বিত ও রূপান্তরমূলক কর্মসূচির দিকে কোইকা-বাংলাদেশ সহযোগিতার পরবর্তী পর্যায়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পাশাপাশি ঢাকার এমআরটি প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের জন্য কোরিয়ার পক্ষ থেকে দ্রুত সম্মতি চেয়েছেন।
এই বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক সুবিধা ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিশেষত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের ব্যাপক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
কোইকার সহ-সভাপতি উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও কোরিয়ার উন্নয়ন-সহযোগিতার অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র ও কর্মসূচি অন্বেষণে তার প্রস্তুতির কথা ব্যক্ত করেন।
এই দুটি বৈঠকে পারস্পরিক সুবিধার জন্য বিশেষত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :