• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট থেকে লন্ডনে বিলাসবহুল বাড়ি : সরকারী চাকুরী করে আরিফ উদ্দিন হয়েছেন শত কোটি টাকা ওমসম্পদের মালিক


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ন / ২
বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট থেকে লন্ডনে বিলাসবহুল বাড়ি : সরকারী চাকুরী করে আরিফ উদ্দিন হয়েছেন শত কোটি টাকা ওমসম্পদের মালিক

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ এ কে এম আরিফ উদ্দিন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা, যিনি সংস্থাটির বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওনার পৈতৃক বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার রায়পুর গ্রামে (পিতা: করিম হাজী)। তবে কর্মস্থল ও দীর্ঘ সময় ঢাকায় থাকার সুবাদে তিনি রাজধানী ঢাকার বারিধারা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘ব্লক-সি’-তে বিলাসবহুল নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। ২০২৬ সালের জুন মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সাথে ওনার একটি আপত্তিকর ও নৈতিকতা পরিপন্থী ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০ অনুযায়ী নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের অপরাধে ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার ঠিক আগে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে আরিফ উদ্দিন এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেন যে, আধুনিক প্রযুক্তি বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে একটি চক্র ওনার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মনগড়া ও আপত্তিকর এডিটেড (নকল) ভিডিও তৈরি করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৩ সাল থেকে ওনার ও ওনার পরিবারের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের হিসাব চেয়ে তদন্ত শুরু করে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, ওনার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নদী রক্ষা অভিযানের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও “আস্থাভাজন” কর্মকর্তা হিসেবে আরিফ উদ্দিনকে বিবেচনা করা হতো।

সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খানের সাথেও ওনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। লন্ডনে বাড়ি ও অর্থ পাচার: দুদক ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান অনুযায়ী, আরিফ উদ্দিন দেশে অর্জিত কালো টাকা হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে (লন্ডনে) পাচার করেছেন। গত প্রায় এক যুগ ধরে ওনার স্ত্রী শামীমা দিবা এবং কন্যা ঐশ্বরিয়া লন্ডনে বসবাস করছেন এবং সেখানে তাদের নামে বিলাসবহুল আবাসন বা বাড়ি কেনা রয়েছে। এ কে এম আরিফ উদ্দিনের ছেলে সাদ আব্দুল্লাহ আফ্রিদি লন্ডনের নামকরা হাল্ট ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্কুল (Hult International Business School) থেকে বিজনেস অ্যানালিটিক্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন
সাদ আব্দুল্লাহ আফ্রিদি যুক্তরাজ্যের সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইউকে কোম্পানি হাউজ’ (UK Company House)-এ নিবন্ধিত ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত এবং তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি বড় অংশ পূর্ব লন্ডনের বো (Bow) ও পপলার এলাকার ৪৬ আরমাঘ রোডের ঠিকানাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।
তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ড্যাস গ্লোবাল লিমিটেড’ (DAAS Global Limited) এবং ড্যাস লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যার মূল করপোরেট কার্যালয় ঢাকার গুলশানে অবস্থিত এবং এখান থেকে মূলত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ফাইল প্রসেসিং করা হয়। শিক্ষা খাতের পাশাপাশি তিনি ড্যাস গ্রুপের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ড্যাস কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’ (DAAS Construction & Engineering Limited)-এর পরিচালনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত, যা প্রধানত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নির্মাণ, প্রকৌশল ও অবকাঠামোগত বাণিজ্যিক প্রজেক্টের কাজ তদারকি করে থাকে। যুক্তরাজ্যের সরকারি কোম্পানি হাউজের (UK Company House) রেকর্ড ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওনার ছেলে সাদ আব্দুল্লাহ আফ্রিদি যিনি ১৫ বছর বয়সে স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডনে যান ওনার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পূর্ব লন্ডনের বো (Bow) ও পপলার এলাকার কাছাকাছি ৪৬ আরমাঘ রোড, লন্ডন (46 Armagh Road, London, E3 2YH) ঠিকানাটি ব্যবহার করেছেন।
স্ত্রীর নামে বেনামী সম্পত্তিঃ নিজের সরকারি চাকরি বাঁচাতে আরিফ উদ্দিন অধিকাংশ সম্পত্তি স্ত্রী শামীমা দিবার নামে দলিল করিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, এলিফ্যান্ট রোডে বহুতল ভবনের অংশীদারিত্ব, বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) এবং প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার থাকার তথ্য তদন্তের আওতায় এসেছে। ব্যাংক হিসাব জব্দের দাবি ও বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওনাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক কোটি কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার পর এ কে এম আরিফ উদ্দিন, ওনার স্ত্রী ও সন্তানদের সকল ব্যাংক হিসাব অবিলম্বে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া জোরালো হয়েছে। বর্তমানে ওনার বিরুদ্ধে ওঠা নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সার্বিক অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া দুদক ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থা দ্বারা চলমান রয়েছে।