

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশালঃ বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের নার্সিং ইনচার্জ (ব্রাদার) শফিকুল ইসলাম শাহীনের বিরুদ্ধে রোগীদের ড্রেসিং ও সেলাইয়ের কাজ করিয়ে টাকা নেওয়া, রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের বড় অংশ নিজের কাছে রাখা এবং এক কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে ওটি থেকে চিকিৎসা সামগ্রী সরানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া ওটির ক্যাটগাট সুতা রোগীকে দিয়ে বাইরে থেকে আনার বিল হাতে নিয়ে নেন শফিক। হাসপাতালের স্ট্রেচার বেয়ারার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত আবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, নার্সিং ইনচার্জ শফিক ব্রাদার রোগীদের ড্রেসিংসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার সময় তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেন। রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তাঁকে চায়ের দোকানে নিয়ে যাওয়া হতো এবং খরচের সামান্য অংশ রেখে বাকি টাকা নিয়ে নেওয়া হতো। ওটির ক্যাটগাট সুতা দিয়ে সেলাই করে সেগুলোর বাইরের মুল্য রোগীর থেকে হাতিয়ে নেন শফিক।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, হাসপাতালের বাইরে থেকে আসা রোগীদের ড্রেসিং বা সেলাইয়ের কাজের জন্যও টাকা নেওয়া হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে অভিযোগকারী দাবি করেন, আদায় করা অর্থের একটি অংশ তাঁকে দেওয়া হলেও পরে সেই টাকা আবার নিয়ে নেওয়া হতো। এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা কাউকে জানালে চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া কিংবা চিকিৎসাসামগ্রী আত্মসাতের মতো অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. জগদীশ মিস্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নার্সিং ইনচার্জ শফিকুল ইসলামের সাথে কয়েকদফা যোগাযোগ করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :