

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ নরসিংদীর পলাশ ফায়ার স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও আব্দুস শহীদকে ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার স্টেশনে বদলি করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ ও জ্বালানি ব্যবহারে অনিয়ম, রেশন উত্তোলন ও বিক্রি, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং অধীনস্থ কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের মধ্যেই ঢাকায় তার বদলি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অভ্যন্তরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ডিজির স্টাফ অফিসার শামস সালমান ও মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে আব্দুস শহীদের ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি পলাশে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত বিষয়েও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পলাশে দায়িত্ব পালনকালে নানা অভিযোগ উঠলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সম্প্রতি তাকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশনে বদলি করা হয়েছে।
পলাশে দায়িত্ব পালনকালে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি, অগ্নিনির্বাপণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম বাইরে বিক্রি এবং এর বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি দায়িত্বশীলদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি মোটরসাইকেল না হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে সরকারি জ্বালানি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে। স্টেশনের সিলিং ফ্যান, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সরকারি মালামাল বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকারি পুকুরের মাছ ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন কর্মচারী। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ছুটিতে ঢাকায় যাওয়ার সময় বস্তাভর্তি মাছসহ স্টেশনের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সরকারি রেশন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অফিস আদেশে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় বেশি চাল ও গম খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, ৭০০ কেজি চাল ও ৮০০ কেজি গমের চাহিদার বিপরীতে অতিরিক্ত রেশন উত্তোলন করে তা বাইরে বিক্রি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অতিরিক্ত রেশন নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি কর্মীদের বদলি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিংবা চাকরিতে সমস্যা তৈরির ভয় দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না—এমন মনোভাবও তিনি প্রকাশ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, পলাশে দায়িত্ব পালনকালে এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা পাওয়ায় আব্দুস শহীদ অনেকটা নির্ভার ছিলেন। এখন একই প্রভাবের কারণে অভিযোগগুলো পাশ কাটিয়ে তাকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বদলি করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিশেষ করে তার বদলি আদেশের প্রক্রিয়া, পলাশে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা তদন্ত হয়েছিল কি না এবং সরকারি রেশন, জ্বালানি ও মালামালের হিসাব—এসব বিষয় তদন্ত করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :