• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জে সরকারি পুকুর ও সড়কের গাছ কেটে নেওয়ার দুই পৃথক অভিযোগ


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন /
গোপালগঞ্জে সরকারি পুকুর ও সড়কের গাছ কেটে নেওয়ার দুই পৃথক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে সরকারি সম্পত্তি ও সড়কের গাছ কেটে নেওয়ার পৃথক দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা পরিষদের পুকুর লিজ নিয়ে মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে, অন্যদিকে রাস্তার পাশ থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপীনাথপুর ইউনিয়নে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি পুকুর সম্প্রতি মাছ চাষের জন্য লিজ নেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজা মিয়া। অভিযোগ উঠেছে, পুকুর ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে এবং কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পুকুরপাড়ে থাকা প্রায় ২০টি মূল্যবান ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নিয়ে গেছেন তিনি। কাটা পড়া মেহগনি, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন গাছের আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা।

অন্যদিকে, গোপীনাথপুর পশ্চিম পাড়া রাস্তার পাশ থেকে একইভাবে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই বাদশা মোল্লার বিরুদ্ধে। প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার পাশের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রশাসনিক তদারকির অভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি সম্পদ উজাড় করা হচ্ছে। জেলা পরিষদের পুকুর বা গ্রামীণ সড়ক—কোনো জায়গার গাছ কাটারই কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে রাজা মিয়া জানান, মাছ চাষ ও পুকুর পরিষ্কারের জন্য গাছ ও ডালপালা কাটা হয়েছে, তবে তিনি বৈধ কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। অপর অভিযুক্ত বাদশা মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রাস্তার গাছ কাটার বিষয়ে পাইকেরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি অফিসের কর্মকর্তা তহসিলদার শ্যামল কুমার রায় বলেন, অভিযুক্ত বাদশা মোল্লা খুবই অসুস্থ। গাছগুলো চেয়ারম্যানে জিম্মায় রয়েছে। বাদশা মোল্লা সুস্থ হয়ে আসলে যাচাই বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ইজারাদার বা কোনো ব্যক্তি সরকারি সম্পদ বা রাস্তার গাছ কাটার অধিকার রাখেন না। দুটি ঘটনার বিষয়েই খোঁজ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।