• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হলরোডে ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক আটক, পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ন / ৪৭
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হলরোডে ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক আটক, পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা

খুলনা অফিসঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর (হলরোড) এলাকায় বেলাল নামে এক যুবককে ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। রবিবার এ ঘটনা ঘটে।

আটক বেলাল মোহাম্মদনগর এলাকার মো. কাশেমের ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলরোড এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় তরুণদের কাছে ইয়াবা ও গাঁজা সরবরাহ করে আসছিলেন।

ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, একটি স্টিলের ছুরি, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ প্রায় ৭ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল জানান, তিনি রেজাউল নামের এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে মাদক সরবরাহের কাজ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, রেজাউল বিভিন্ন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতেন এবং সাংকেতিক নামে মোবাইলে নম্বর সংরক্ষণ করে সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। বেলাল আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর কাছেও তিনি মাদক পৌঁছে দিতেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদক বিস্তারের পেছনে কারা জড়িত— তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইংলিশ ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রুহুল আমিন মুন্না বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হলেও সেখানে মাদকের বিস্তার শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজের ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, ডোপ টেস্ট চালু এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।

দায়িত্বরত পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে হলরোড এলাকা থেকে হেফাজতে নিয়ে হরিণটানা থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, আটক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর যোগাযোগ নম্বর পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। তদন্তে কোনো শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।