• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের হালচাল


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২১, ২০২২, ৯:৩১ অপরাহ্ন / ১৭
দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের হালচাল

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের মধ্যে বোচাগঞ্জ ও ফুলবাড়ী উপজেলায় জমি নির্ধারণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এখনও দরপত্র আহ্বান এবং কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। দিনাজপুর গণপুর্ত অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী কুতব উদ্দীন আল মাহমুদ রোববার দুপুরে তার কার্যালয়ে এই জেলার মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি বিষয়ে জানান, জেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণে ১৫ কোটি ৬১ লাখ এবং প্রত্যোকটি উপজেলার মডেল মসজিদ নির্মাণে ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেকটি মডেল মসজিদ নির্মাণ আধুনিক ও যুগ উপযোগী পদ্ধতি ব্যবহারে উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনে টিকসই ও মজমুদ ভিত্তিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে নামাজের ব্যবস্থা, ধর্মীয় লাইব্রেরি, বৈঠকের জন্য হল রুম, উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের দপ্তরসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা মসুল্লিদের জন্য সংযোজন থাকবে।
তিনি জানান, জেলায় একটি জেলা সদরে মডেল মসজিদসহ ১৩টি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে গত ২০২১ সালে অর্থবছরে সারা দেশের মতো এই জেলার মসজিদগুলো নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সে সময় মসজিদ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণকে পত্র দিয়ে অবগত করানো হয়। নির্বাহী কর্মকর্তাদের মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারন করে ৮টি উপজেলা এবং জেলা সদরে স্থান নির্ধারণ করে গণপুর্ত অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে অবগত করানো হয়। অপর ৪টি উপজেলায় সমজিদ নির্মাণে স্থান ও জমি নির্ধারণ করতে না পারায় সে সময় ওই ৯টি মসজিদ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। নিয়োজিত ঠিকাদার কার্যাদেশ পাওয়ার পর তাদের কাজ শুরু করেন। অগ্রধিকার ভিত্তিতে গতবছর ডিসেম্বর মাসে জেলার বিরল ও খানসামা উপজেলার দু‘টি নির্মিত মডেল মসজিদ উদ্ভোধন করা হয়েছে। এখন ৪টি মসজিদ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যে কোন সময় এই ৪টি মডেল মসজিদ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ভোধন হলে কার্যক্রম চালু করা যাবে।
৩টি উপজেলা সদর, বিরামপুর এবং দিনাজপুর জেলা শহরে নির্মিত মডেল মসজিদের নির্মান কাজ এগিয়ে রয়েছে। বীরগঞ্জ, কাহারোল ও চিরিরবন্দর উপজেলায় চলতি মাসে দরপত্রের মাধ্যমে মডেল মসজিদ নির্মানের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। এই ৩টি উপজেলায় নির্মান কাজ প্রাথমিকভাবে শুরু করা হয়েছে। নতুন ইট নামলে নির্মান কাজ দ্রুতগতিতে শুরু করবেন বলে নিয়োজিত ঠিকাদারগণ গণপুর্ত অধিদপ্তরে আশ^স্ত করেছেন।

তিনি জানান, অপর দু‘টি উপজেলা বোচাগঞ্জ ও ফুলবাড়ী নির্বাহী কর্মকর্তাগণকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একাধিকবার গণপুর্ত অধিদপ্তর থেকে মডেল সমজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে জমি বরাদ্দ প্রদানের জন্য পত্র দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোন স্থান নির্ধারণ করে এই কার্যালয়কে অবহিত করা হয়নি। ফলে এই দু‘টি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য গত ২ বছর বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছর স্থান নির্ধারণ বা জমি বরাদ্দ না করা হলে এই দু‘টি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ অনিশ্চিয়তার দিকে এগিয়ে রয়েছে। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসকের মাসিক সমন্বয় উন্নয়ন সভায় একাধিকবার উপস্থাপন করেছে। জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ খুব শিগগিরই জমি স্থান নির্ধারণ করে গণপুর্ত অধিদপ্তরকে জানাবেন এ ধরনের কথা বলা হলেও কোন কাজ হয়নি।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকীর কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দু‘টি উপজেলার সংসদ সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু চাহিদা মত স্থানে জমি বরাদ্দ করতে না পারায় এবং জমি সংক্রান্ত জটিলতায় থাকায় ওই দু‘টি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বিষয়টি ওই দু‘ উপজেলার সংসদ সদস্যদের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন বলে অবগত করেন।বিষয়টি সরকারের ঊধর্¦তন কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।