

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দুর্নীতির চিত্র আবার আলোচনায়। জাল শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সনদে ২২ বছর ধরে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদ দখলে রাখা সিরাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পর সংকট আরও গভীর হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন, দুদকে অভিযোগ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তের পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
সংকট কাটাতে গত ৫ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামকে একই সঙ্গে তার মূল পদ বহাল রেখে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয় ডিএসসিসি। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নজরুল ইসলামের চাকরিতে প্রবেশের ভিত্তিও ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। আবেদনে তিনি সাভার পৌরসভায় সহকারী নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ হিসেবে ৫ বছরের অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেন, অথচ সাভার পৌরসভার নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে—ওই সময় সেখানে এমন কোনো পদই ছিল না, এবং তিনি সেখানে কখনো চাকরিও করেননি। ফলে তার দাখিলকৃত অভিজ্ঞতা সনদটি ছিল শতভাগ ভুয়া ও বানোয়াট।
অনুসন্ধান বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব, বিপুল অঙ্কের ঘুষ ও অনৈতিক প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক বাধা দূর করেন এবং চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন অভিযোগ ঝুলিয়ে রাখা হয়, পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি এখন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে বসেছেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, ডিএসসিসির উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি নগর পরিকল্পনা বিভাগ সেখানে অযোগ্য ও জাল সনদধারীদের বসানোয় নগর পরিকল্পনায় আরও মারাত্মক ও গভীর সংকট তৈরি হবে, যার খেসারত দেবে সাধারণ নগরবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :