• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৭, ২০২৩, ৯:৪০ অপরাহ্ন / ১৮
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক,গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামি সংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গোপালগঞ্জ শহরের ফকিরকান্দিতে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক এ স্থাপনার নির্মিত হয়েছে। মডেল মসজিদ ও ইসলামি সংস্কৃতিক কেন্দ্র ওই এলাকার দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। এখানে নামাজ আদায় ও ধর্মচর্চা করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন গোপালগঞ্জের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

এ মজিসদে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা রয়েছে। এখানে লাইব্রেরি, গবেষণা ও দীনি দাওয়াত কার্যক্রম, পবিত্র কুরআন হেফজ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশী পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া হজ্জযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ব্যবস্থা থাকছে আধুনিক এ ইসলামি স্থাপনায় । ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিস রয়েছে এখানে।

গোপালগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলাম ধর্মীয় ইবাদত ও শিক্ষার অনুশীলনের আধুনিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আধুনিক, চিত্তাকর্ষক নিদর্শন ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মসজিদ ও ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে । গোপালগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তর মসজিদটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে।

জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। সেই আলোকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩ তলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪ বর্গমিটার আয়তনের ‘বি’ ক্যাটারির মসজিদ। এ মডেল মসজিদে একসঙ্গে ৯০০ মুসল্লির নামাজ আদায় করতে পারবেন।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোহাম্মদ রুহুল আমিন মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বর্ণনা করে বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট, ১৯৭৫-এর বাস্তবায়ন এবং দেশব্যাপী শক্তিশালী ইসলামি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা। সারাদেশে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও প্রকৃত মূল্যবোধের প্রচার ও দীক্ষাদান চালু করা। সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। পুরুষ-নারী মুসল্লিদের জন্য নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দীনি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভৌত সুবিধাদি সৃষ্টি করা। ইসলামিক জ্ঞান ও সংস্কৃতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধের পরিচর্যা ও প্রসার করা এবং সততা ও ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আনুগত্য সমর্থন সৃষ্টি করাই প্রকল্পের মূখ্য উদ্দেশ্য।

গোপালগঞ্জ শহরের ফকিরকান্দি এলাকার বাসিন্দা কাজী জাহিদ বলেন, মডেল মসজিদ ও ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র আমাদের এলাকর সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনা আমাদের কাছে খুব ভালো লাগছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মসজিদটি আমাদের এলাকায় করে দিয়েছেন। এজন্য তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এখানে নামাজ আদায় করার জন্য অমার গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এটি উদ্বোধন হওয়ার সাথে সাথে আমরা আমরা এখানে নামাজ আদায় করব।

একই এলাকার বাসিন্দা মিলন শেখ বলেন, এ মসজিদটি আমাদের এলাকার অভিজাত স্থাপনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখানে প্রতিদিন মানুষ আসছেন। তারা এ মসজিদের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। আমার কাছে মসজিদটি প্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রতিদিন শতশত মুসল্লি লামাজ আদায় করবেন। মুসল্লিদের ধর্ম চর্চায় মসজিদটি মুখরিত হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এলাকায় এমন সুন্দর মসজিদ উপহার দেওয়ার জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মসজিদে নামাজ আদায় করার পর প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া মোনাজাত করব।

গোপালগঞ্জ গণপূর্থ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, ১২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আধুনিক ইসলামী স্থাপত্য শিল্পের আদলে নির্মিত এ মসজিদের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া জেলায় আরো ৫টি মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা