• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

খুলনায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই খুন, নেপথ্যে মাদক ও আধিপত্যের বিরোধের সন্দেহ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ন / ২
খুলনায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই খুন, নেপথ্যে মাদক ও আধিপত্যের বিরোধের সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাঃ খুলনা মহানগরীতে প্রায় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডে এক নারী ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় গুলিতে তুষার (২৭) নামে এক যুবক নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুশি (২৪) নামে এক নারীকে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ এবং অন্যটির পেছনে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর লবণচরা থানাধীন জিন্নাহপাড়া ৭ নম্বর রোডের টাওয়ার গলির সামনে খুশিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা খোকনের মেয়ে এবং ব্লেড বাবুর স্ত্রী। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর মাথায় গুলি লাগে। এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মায়ের দাবি, ঘটনার সময় তিনি মেয়ের সঙ্গে বাড়ির সামনে ছিলেন। এ সময় মিরাজ নামে এক যুবক তাঁদের কাছে এসে খোঁজখবর নেন। এর কিছুক্ষণ পরই দুর্বৃত্তরা তাঁর মেয়েকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশে আনসার উদ্দিন লেনে গুলিতে নিহত হন তুষার (২৭)। তিনি লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব বানিয়াখামারের লোহার গেট এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে ধস্তাধস্তি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে বুকে আঘাত পেয়ে মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান তুষার। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু দূর থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তুষার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য ছিলেন এবং প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

একই দিনে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরীতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।