• ঢাকা
  • শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

আনন্দমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস ও বাহরাইনে জাতীয় দিবস উদযাপন।


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৮, ২০২২, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন / ৬৩
আনন্দমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস ও বাহরাইনে জাতীয় দিবস উদযাপন।

সৈয়দ মামুন হোসেন,বাহরাইন মানামা প্রতিনিধিঃ যথাযথ মর্যাদার মধ্য দিয়ে ও আনন্দমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ দূতাবাস, মানামাতে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর সকালে বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এবং দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ পরিক্রমায় সংঘটিত বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহসিকতা এবং বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ নেতৃত্বের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত পথ ধরে, তাঁর সার্থক উত্তরসূরী ও সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া, তিনি প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরকে দল ও মতের বিবেদ ভূলে একযোগে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বির্নিমানে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের যারা শাহাদাত বরণ করেছে এবং বিশেষ করে স্বাধীনতা অর্জনে যারা শাহাদাত বরণ করেছে সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এ আলোচনা অনুষ্ঠান ছাড়াও দূতাবাসের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ স্কুল বাহরাইন-এর উদ্যেগে স্কুলের নিজস্ব জমি আ’লি-তে ০৩ দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ১৫ ডিসেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪:০০ ঘটিকায় মেলাটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী এবং বাহরাইনে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।মেলাতে দেশি-বিদেশী প্রায় ৮০ টি ষ্টল বসে এবং রাষ্ট্রদূত ড. ইসলাম মেলার উদ্বোধন শেষে ষ্টলসমূহ ঘুরে দেখেন। যেখানে লাইব্রেরি, রেষ্টুরেন্ট, গার্মেন্টস, হস্তশিল্পসহ দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারে সজ্জিত অনেক স্টল স্থাপন করা হয়। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য খেলাধুলার জন্যও বিশেষ আয়োজন রাখা হয় এবং বাংলাদেশের কৃষ্টি ও ঐতিহ্য বিদেশের মাটিতে তুলে ধরতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অপরদিকে, ১৬ ডিসেম্বর বাহরাইনের জাতীয় দিবস হওয়ায় এ দিনে বাহরাইনের মহামহিম রাজা হামাদ বিন ইসা আল খালিফা-এর পৃষ্ঠপোষকতায় বাহরাইনের জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে একটি মেলার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসও উক্ত মেলায় অংশগ্রহন করে। রাষ্ট্রদূত ড. ইসলাম ‘বাংলাদেশ ষ্টল’ সহ এ মেলার বিভিন্ন ষ্টল ঘুরে দেখেন। অনেক দেশি-বিদেশী দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের ষ্টল দেখতে আসেন। তাঁরা বাংলাদেশের অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যপূর্ণ ছবি এবং হরেকরকম পণ্য দেখে মুগ্ধ হন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ মেলায় বাংলাদেশ দূতাবাসের অংশগ্রহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এ বছর মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিলো দূতাবাসকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রঙে আলোকসজ্জার আয়োজন। সন্ধ্যা ৬ টার পর বাংলাদেশ দূতাবাস জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালায় বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্মচারীগণ,বিভিন্ন সংঘটনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় যোগ দেন।