• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

শার্শায় সোনালী আঁশের বাম্পার ফলন, সিন্ডিকেটের দখলে কৃষকের প্রত্যাশিত দাম


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন / ১৩
শার্শায় সোনালী আঁশের বাম্পার ফলন, সিন্ডিকেটের দখলে কৃষকের প্রত্যাশিত দাম

আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়াসহ বিভিন্ন স্থানীয় হাটে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পাটের বাম্পার ফলন এবং মান ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ এলাকার কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার মাটির অনুকূল পরিবেশ ও ভালো আবহাওয়ার কারণে শার্শায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট চাষ হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে—অর্থাৎ এক বছরে আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। সুন্দর আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা সঠিক সময়ে পাট কেটে সহজে জাগ দিতে পেরেছেন।

তবে হাটের বর্তমান চিত্র দেখে কৃষকদের মুখে হাসির বদলে চিন্তার রেখা। গত বছর শুরুতে নতুন পাট ২,৬০০ থেকে ২,৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও এবার শুরুতে দাম ছিল ২,৫০০ টাকা। বর্তমানে ধাপে ধাপে বেড়ে তা ৩,৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় মণপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা বেশি।
কিন্তু কৃষকদের ক্ষোভ অন্য জায়গায়—যশোরের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় ভালো মানের পাট বর্তমানে মণপ্রতি ৪,০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাগআঁচড়া, গোগা ও রুদ্রপুর এলাকার চাষিদের অভিযোগ, স্থানীয় একশ্রেণীর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিমভাবে পাটের দাম কমিয়ে রেখেছেন।
এর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি কৃষকদের আরও চাপে ফেলেছে। রুদ্রপুর গ্রামের কৃষক ইনছান আলী জানান, তিনি ৯ কাঠা জমিতে ৮ মণ ১০ কেজি পাট পেয়েছেন। ফলন ভালো হলেও শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে। গত বছর যেখানে দিনে ৪০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, এবার সেখানে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর খরচ অনেক বেশি। ফলে মণপ্রতি উৎপাদন খরচ গতবারের চেয়ে ৪-৫ শত টাকা বেড়েছে। তার মতে, বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৪,০০০ টাকায় বিক্রি করতে পারলে চাষিরা প্রকৃত লাভ পেতেন।

বাগআঁচড়া বাজারের পাট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি স্থানীয় হাট থেকে পাট কিনে ফরিদপুর, খুলনা, বগুড়া ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মোকামে পাঠান।
এদিকে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি সহায়তার কারণে কৃষকরা পাটে ভালো ফলন পেয়েছেন। বীজ বিতরণ ও কৃষি বিভাগের পরামর্শের কারণে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন এবং আগামীতে তারা পাট চাষে আরও আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।