

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) এস.এম. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ‘বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ সংস্থা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন’ (রেজিঃ নং- বি-১৮৩৮)-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে পেট্রোবাংলা ভবনের প্রধান ফটকে স্থাপিত একটি শোক ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক (প্রশাসন) নিজে উপস্থিত থেকে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন, যা সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এস.এম. মাহবুব আলম (বিসিএস ২১ ব্যাচ) বিগত সরকারের সময় বেলজিয়ামে বাংলাদেশ
দূতাবাস এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পূর্বে তিনি পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) পদে নিযুক্ত হন। তাঁর বিরুদ্ধে পেট্রোবাংলা এবং এর অধীনস্থ ১০টি কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি, প্রেষণ, পদোন্নতি এবং প্রশিক্ষণের ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রেখে একটি বিশেষ চক্রের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা
নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই সাথে অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মতামতকে তোয়াক্কা না করে এককভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে স্মারকলিপিতে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে।
যার মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হলো, ব্যানার অপসারণের ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা। তদন্ত চলাকালীন প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিচালক (প্রশাসন)-কে সাময়িক ভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা। বিগত কয়েক বছরের পদোন্নতি, বদলি এবং কেনাকাটার নথিপত্র অডিট করা এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তাঁর সম্পদের অনুসন্ধান করা।
সার্বিক বিষয়ে অভিযুক্ত পরিচালক (প্রশাসন) এস.এম. মাহবুব আলম মুঠোফোনে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত শোক ব্যানারটি দীর্ঘ ৫-৬ মাস ধরে সেখানে ঝুলছিল এবং নোংরা হয়ে পড়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নতুন ব্যানার স্থাপনের উদ্দেশ্যেই আমি সেটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম।
মুঠোফোনে তিনি আরও বলেন যে, নিয়োেগ, বদলি বা কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় আমার একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি যে কোনো ধরনের তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানান।
এদিকে সামগ্রিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো: আব্দুল মান্নানের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান না হলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক দেওয়ান মওদুদ আহমেদের ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত ০৩.০০.০০০০.০০০.০৭৮.৯৯.০০০৯.২৬ (অংশ-১)-৮০ স্বারকের পত্র মুলে জানা যায় উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে, বর্ণিত বিষয়ে পরীক্ষান্তে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :