• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় মাদকের সাম্রাজ্য : হাত বাড়ালেই মাদক ও নারী, ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছে পর্যটকরা


প্রকাশের সময় : মার্চ ৯, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ন / ১৫৫
পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় মাদকের সাম্রাজ্য : হাত বাড়ালেই মাদক ও নারী, ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছে পর্যটকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানাধীন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা দিন দিন মাদক, নারী ব্যাবসা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পর্যটন ব্যাবসার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও নারী ব্যাবসা চালিয়ে আসছে। এখানে এক ধরনের শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশেষ করে রাত নামলেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন কিছু হোটেল, গেস্ট হাউজ, কটেজ ও নির্জন এলাকাকে কেন্দ্র করে মাদক সেবন ও কেনা-বেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক অনেকটা প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনেকের ভাষায়, হাত বাড়ালেই মাদক— এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই পর্যটন শহরে, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের মাঝেও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরার ট্রলার, স্পিডবোট ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে গোপনে মাদক আনা-নেওয়া করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা। অনেক সময় রাতের অন্ধকারে সাগর পথে মাদক এনে উপকূলের নির্জন পয়েন্টে খালাস করে দ্রুত বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে মাদক কারবারিদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু মাদক ব্যাবসাই নয়, পর্যটনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নারী ব্যাবসার বিস্তার ঘটিয়েছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট।

অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র কৌশলে পর্যটক বা বিভিন্ন ব্যক্তিকে মাদক ও নারীর ফাঁদে ফেলে পরে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, এই ব্ল্যাকমেইল চক্রের কারণে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

সচেতন মহলের মতে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন যাবত পরিকল্পিতভাবে এ সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তারা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মাঝেও চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তাদের মতে, কুয়াকাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র যদি মাদক, নারী ব্যাবসা ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের কবলে পড়ে তা হলে দেশের পর্যটন খাতের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে পর্যটকদের আগ্রহও কমে যেতে পারে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ, নিয়মিত অভিযান, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি সহ এ সব অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এখনই যদি প্রশাসন শক্ত হাতে এই চক্রকে দমন না করে তাহলে পর্যটন নগরী কুয়াকাটা ধীরে ধীরে মাদক, নারী ব্যাবসা ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সুনাম, নিরাপত্তা ও পর্যটন শিল্প রক্ষায় অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।