

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে জিল্লাল খান নামে এক পাট ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। আহত জিল্লাল খান বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী লিপচা খানম (৩০) বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জিল্লাল খান পাটের ব্যবসা করেন। গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে পাট বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে সদর থানার সিলনা এলাকার সিলনা সুইচ গেটের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, জিল্লাল খান প্রতিবাদ করলে ১ নম্বর অভিযুক্ত সাহাদ আলী মোল্লার নির্দেশে আখির মোল্লা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেন। জিল্লাল মাথা সরিয়ে নিলে কোপটি তাঁর ডান কানের পেছনে লেগে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়।
পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে জাকির মোল্লা ও আবুর বান লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে তাঁর বাম পায়ে গুরুতর হাড়ভাঙা জখম হয়। একপর্যায়ে সাহাদ আলী মোল্লা রামদা দিয়ে আবারও তাঁর মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। জিল্লাল মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তাঁর চোখের নিচে লাগে। এতে সেখানেও রক্তাক্ত জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা জিল্লালকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন। এ সময় শাওন মোল্লা তাঁর লুঙ্গির কোচরে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিল্লালের চিৎকার শুনে চুন্নু খান ও মওলা মোল্লাসহ স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁদেরও হুমকি দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সুযোগ পেলে জিল্লালকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত জিল্লাল খানকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
আহতের স্ত্রী লিপচা খানম অভিযোগে উল্লেখ করেন, স্বামীর চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :