• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মায় অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ধ্বংস ২০টি চায়না দূয়ারী


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ন / ১৩
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মায় অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ, ধ্বংস ২০টি চায়না দূয়ারী

এম, এম, সাইফুর রহমান, চরভদ্রাসন, ফরিদপুরঃ ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর বুকে অবৈধ ভাবে নির্মিত মাছ ধরার বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই অভিযানে অবৈধ মাছ ধরার ২০টি চায়না দূয়ারী পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার চরশালেপুর ও চর মির্জাপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলহাস হোসেন সৌরভ।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, পদ্মা নদীর বুকে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকারের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীনির্ভর শত শত জেলে পরিবার জীবিকা সংকটে পড়ে।

জানা যায়, উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরশালেপুর ও চর মির্জাপুরের মধ্যবর্তী পদ্মা নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ আহরণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েক জনের বিরুদ্ধে। বাঁশের খাঁচা ও সূক্ষ্ম ফাঁদের জাল ব্যবহার করে পোনা মাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জেলেরা। এতে নদীর পানিপ্রবাহ ও মাছের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী জেলেরা বাঁধ অপসারণের দাবিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য দ্রুত বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশের পরও দীর্ঘ ১৮ দিন বাঁধ অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নদীর অবৈধ বাঁধ অপসারণের পাশাপাশি ২০টি চায়না দূয়ারী পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, পদ্মা নদী তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। নদীতে অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে নদীর মৎস্যসম্পদ হ্রাসের পাশাপাশি জেলেদের জীবিকা আরও সংকটের মুখে পড়বে।

তারা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার বন্ধ এবং নদীর মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং নদীনির্ভর জেলে পরিবারগুলোর জীবিকা রক্ষায় ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।