

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা গ্রহীতারা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সেবা গ্রহীতাদের দাবি, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ঘুষ ছাড়া মিলছে না কাঙ্খিত কোন সেবা। এছাড়াও প্রতিবাদ করা সাধারণ সেবা গ্ৰহিতাদের সঙ্গে করা হচ্ছে চরম দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতা। ফলে বাধ্য হয়েই জরুরি এই সেবা নিতে দালাল চক্রের শরণাপন্ন হচ্ছেন দূর দূরান্ত থেকে জরুরী সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
স্বাভাবিক নিয়মে পাসপোর্ট করার আবেদন করলে দিনের পর দিন ঘুরেও জমা করতে পারেন না সাধারণ মানুষ। অথচ গোপন আর্থিক চুক্তি করলেই সহজে মিলছে সেবা। খুব অল্প সময়েই হাতে পেয়ে যাচ্ছে পাসপোর্ট। এমনটাই অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের মুখে মুখে।
গোপালগঞ্জ জেলা জুড়ে পাসপোর্ট অফিসের সীমাহীন এই অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা – সমালোচনা। তবে এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কোন মাথাব্যথা নেই। তাদের দাবি সাধারণ মানুষের এটি স্বভাবগত অভ্যাস, ভালো করলেও কিছু মানুষ অপপ্রচার চালায়।
হয়রানি ও চরম ভোগান্তির শিকার হওয়া উৎপল মৃধা, সিমলা রাণী বিশ্বাস, প্রবীর বিশ্বাস রাজু, করুনা রাণী বিশ্বাস “আজকের বাংলাদেশ” অনলাইন পোর্টাল কে বলেন, আমরা নিয়ম মেনে সকল ডকুমেন্টস যুক্ত করে পাসপোর্ট করার আবেদন জমা করতে দিনের পর দিন ঘুরেও জমা করতে পারিনি। বিভিন্ন ভুল ধরে বারবার আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। পরে দালালের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জমা দিয়ে ডেলিভারি স্লিপ হাতে পেয়েছি। এটি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সিন্ডিকেট। প্রথমে ভুল ধরে আবেদন বাদ দিবে, পরে তাদের নিয়োগ প্রাপ্ত দালালের মাধ্যমে উৎকোচ দিয়ে জমা করতে গেলেই কেবল সঠিক বলেই বিবেচিত হয়। গোপন সূত্রে জানাযায়, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল দুর্নীতি ও অনিয়মের এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে জরুরী সেবা প্রদানকারী এ খাতকে আরো বেগবান করবেন এমনটি প্রত্যাশা সাধারণ সেবা গ্রহীতা সহ সচেতন মহলের।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের কাছে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।
আপনার মতামত লিখুন :