

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুরঃ সদ্য বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ফরিদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়াকে ঘিরে দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তার ফরিদপুরে কর্মকালীন সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করা কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৎকালীন সময়ে জেলা প্রশাসকের আশপাশে একটি বিশেষ মহলের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে সাজ্জাদ বাবু নামে এক কথিত সাংবাদিকের নামও আলোচনায় আসে।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, তৎকালীন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মাটিকাটা, বালু উত্তোলন, জমি-সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওই মহলের প্রভাব ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাজ্জাদ বাবু আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের বদলির খবর প্রকাশের পর সাজ্জাদ বাবুর প্রতিক্রিয়া নিয়েও সে সময় সাংবাদিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল বলে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক জানান।
তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার মান নিয়েও প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল।
নির্বাচন ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংক্রান্ত বিষয়েও নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সচেতন সাংবাদিকদের মতে, কোনো সাংবাদিক যদি প্রশাসনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ব্যক্তিগত বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে এতে শুধু ওই ব্যক্তির নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের পেশাগত মর্যাদাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
বর্তমানে ঢাকায় বসবাসরত সাজ্জাদ বাবুর বর্তমান অবস্থান নিয়েও নানা তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। রাজধানীর শ্যামলী ও উত্তরা এলাকায় তার ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তার নিজস্ব গাড়ি ও ব্যবসা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাজ্জাদ বাবুর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, সাবেক জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা প্রশাসনকে ব্যবহার করে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা উচিত।
আপনার মতামত লিখুন :