• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

খুলনাঞ্চলে বোরোর বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে


প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ন / ২৫
খুলনাঞ্চলে বোরোর বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

এম রোমানিয়া, ব্যুরো প্রধান, খুলনাঃ বৈশাখের খরতাপ আর লু-হাওয়ার মাঝেই সোনালি ধানের ঢেউয়ে মুখর হয়ে উঠেছে খুলনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠ। কৃষকের ঘামঝরা শ্রম আর বুকভরা স্বপ্ন যেন বাস্তব রূপ নিয়েছে বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলনের মধ্য দিয়ে। মাঠে মাঠে এখন উৎসবের আমেজ—ধান কাটা, মাড়াই আর ঘরে তোলার ব্যস্ততায় মুখর গ্রামাঞ্চল।

চলতি মৌসুমে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। খুলনা কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষাবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো চারা রোপণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদনও হয়েছে আশানুরূপ।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উন্নত জাতের ধান—ব্রি-১০৪, ব্রি-১০৮, ব্রি-২৮, ব্রি-৮৮, ব্রি-৯২, ব্রি-১০০, ব্রি-১০১ ও বিনাধান-২৫—চাষে কৃষকরা বেশি আগ্রহী হয়েছেন। বিশেষ করে লবণাক্ততা সহনশীল জাত ব্যবহারের কারণে উপকূলীয় এলাকাতেও ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ এবং আধুনিক চাষাবাদের প্রশিক্ষণ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। যেসব জমিতে ধান এখনো কাটা হয়নি, সেগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে পরিপক্ব ধান। কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির হাসি—বাম্পার ফলনের আশা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

তবে উৎপাদন ভালো হলেও খরচের চাপ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। সারের দাম বৃদ্ধি, ডিজেলের খরচ, সেচব্যয় এবং শ্রমিকের উচ্চ মজুরি তাদের লাভের হিসাবকে কিছুটা কঠিন করে তুলেছে। অনেক কৃষকই জানিয়েছেন, প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ভালো ফলন। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত খরচের কারণে লাভ কিছুটা কমে যেতে পারে।

বাগেরহাটের এক কৃষক বলেন, ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু খরচও অনেক বেশি। শ্রমিকের মজুরি ৬০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে, তবুও গরমের কারণে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্য এক কৃষক জানান, বৃষ্টির অভাবে সেচের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় প্রায় ৫৭২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। সেখানেও ধান কাটা ও মাড়াই জোরেশোরে চলছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে খুলনাঞ্চলের অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও।
এদিকে কিছু এলাকায় পানির স্বল্পতার কারণে আংশিক ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ভবিষ্যতে স্থায়ী সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ডিজেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থায় কোনো বড় সমস্যা হয়নি। তারা আশাবাদী, বাজারদর অনুকূলে থাকলে কৃষকরা এবার ভালো লাভ করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার অঞ্চল হিসেবে পরিচিত খুলনাঞ্চলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সবার দৃষ্টি বাজারদরের দিকে—ন্যায্যমূল্য পেলে এই সোনালি ফসলই বদলে দিতে পারে তাদের জীবনের গল্প।