• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬নং ননীক্ষীর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মিতা আহমেদ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন / ৪
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬নং ননীক্ষীর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মিতা আহমেদ

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ শারদীয় দুর্গাপূজা -২০২৬ উপলক্ষে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৬নং ননীক্ষীর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ রনি আহমেদের সহধর্মিণী মিতা আহমেদ।

চেয়ারম্যান শেখ রনি আহমেদের অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষ থেকে মিতা আহমেদ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে পূজার আয়োজক, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

পরিদর্শনকালে মিতা আহমেদ প্রতিটি পূজামণ্ডপের পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দদের হাতে উপহার তুলে দেন। পূজা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যরা উপহারগুলো সাদরে গ্রহণ করেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়।

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ননীক্ষীর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল এহসান, শেখ লিটু, বাদশা আলম বাসু, ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বকুল সরদার, ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর মোল্লাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মিতা আহমেদ বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ননীক্ষীর ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ যেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং সবার মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।

ননীক্ষীর ইউনিয়নের সব মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও পেশিশক্তির অপব্যবহারমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এলাকার সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন মিতা আহমেদ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

পিতার শিক্ষাবিস্তারের অবদান তুলে ধরলেন মিতা আহমেদ।

নিজের বক্তব্যে মিতা আহমেদ তাঁর পিতা বেলায়েত হোসেন মৃধার শিক্ষাবিস্তারে অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর পিতা ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী। মুকসুদপুর উপজেলার পসারগাতী ইউনিয়নের কৃষ্ণাদিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় কৃষ্ণাদিয়া বাগু মৃধা উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিদ্যালয়টির জন্য জমি দান, নিজস্ব অর্থায়ন, শ্রম ও মেধা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে বেলায়েত হোসেন মৃধা উদ্যোগী হন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে তিনি বিদ্যালয়ের জন্য ১ একর ৪ শতাংশ জমি দান করেন এবং সে সময় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে নগদ ১২ লক্ষ টাকা ব্যয় করেন। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে।

মিতা আহমেদ বলেন, তাঁর পিতার শিক্ষাবিস্তারের উদ্যোগ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে একটি এলাকার সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বেলায়েত হোসেন মৃধা জীবদ্দশায় পসারগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, উপহার প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যদিয়ে ননীক্ষীর ইউনিয়নে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মিতা আহমেদ।