• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

মাগুরায় দুই গ্রামের দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে  শতাধিক বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আহত ১০ 


প্রকাশের সময় : মে ২, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ন /
মাগুরায় দুই গ্রামের দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে  শতাধিক বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আহত ১০ 

জিল্লুর রহমান সাগর, মাগুরাঃ মাগুরার শ্রীপুরে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের  দুগ্রুপের সংঘর্ষে শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৯ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত ৬ ঘন্টা ব্যাপী চলমান সংঘর্ষে অভয়পক্ষের শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে উপজেলার নোহাট  গ্রামের বাসিন্দা বিএনপিকর্মী টিটন মোল্লা এবং একই গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর  রহমান কনক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা লিপটন মিয়ার গ্রুপের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে শুক্রবার রাতে  কনক ও লিপটন গ্রুপের লোকজন আশপাশের গ্রামের লোকজন নিয়ে প্রথমে দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় রফিকুল ইসলাম (৩৫), আরব আলী (৬৬), ইয়াহিয়া (২০) সহ উভয় গ্রুপের ১০ জন আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষে  টিটন মোল্লার সমর্থক ইদ্রিস বিশ্বাস, রশিদ মোল্যা, লেলিন মোল্যা, পল্টু মোল্যা, হাকিম শেখ, আতর শেখ, সরোয়ার শেখ, ইকবাল শেখ, সোহেল রানা, চান্দা, রাজু, নজিরউদ্দিন বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট ও ৫টি ছাগল, আনিচ শেখ, মতিন শেখ, আল-আমিন, আদিল উদ্দিন, ছমির মোল্যা, আমির মোল্যা, নুর মহম্মদ বিশ্বাস, আজম বিশ্বাসের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট ও ২ টি ছাগল, ৩ টি গরু, মজিদ শেখ, রাজু শেখের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট ও ৩ টি গরু ও মন্টু শেখের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে প্রতিপক্ষের লোকজন।

এ খবর ছড়িয়ে পরলে টিটনের সমর্থকরা রিপন খানের দোকান ভাঙচুর-লুটপাট, সালেক খানের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, আতিয়ার মোল্যার বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, বিধবা অনু বেগম বাড়িঘর, রেন্টু খান, নুরুজ্জামান, রাশেদ মোল্যার বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, পান্নু বিশ্বাস, আমানত, ঈশান, মশিয়াল, আনোয়ার, শাহীন, রাশিদুল, হাসেম, রাশেম জোয়ার্দারের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট ও দাউদ ও তার ভাই গোলাম তহুরের গোয়ালঘর ও বাড়িঘর অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর-লুটপাট, মিন্টু বিশ্বাসের বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
আমতৈল গ্রামের গোলাম তহুরের স্ত্রী নাসিমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী এবং দেবর দুজনই বাহিরে চাকরি করেন। টিটনের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালায়।

নোহাটা গ্রামের আনিচুর রহমানের স্ত্রী লিপি বেগম বলেন, আমার স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। কনক ও লিপটন মিয়ার লোকজন আমার বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমি এখন আমার ছোট ছোট তিন সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবো? আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

নোহাটা গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, রাতে ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুব আতঙ্কে ছিলাম। কনক ও লিপটনের লোকজন বাড়িতে ঢুকে সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। আমার দুধের বাচ্চা মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়েছিল তাও তারা নিয়ে গেছে। ওদের জেল না হলে এলকায় শান্তি আসবে না।

শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান বলেন, বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতাবেক রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।