• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

ভারী বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হাওর : হতাশার আগুনে কৃষক


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ন / ৫৬
ভারী বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হাওর : হতাশার আগুনে কৃষক

এম এ মান্নান, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওরের বুকে হতাশার আগুনে জ্বলছে কৃষক। লাগাতার অতী ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে হাওরগুলো। তলিয়ে গেছে প্রায় ৬০ ভাগ নিচু জমি ক্ষতির পরিমাণ অর্ধেকেরেও বেশি।

কয়েকদিনের লাগাতার টানা ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরের বোরো কাঁচা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়েছে অধিকাংশ ফসলি জমি।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের সবকটি হাওর জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে অধিকাংশ এলাকা। আধাপাকা বোরো ধান না পারছে সংগ্রহ করতে, না পারছে পানির কবল থেকে রক্ষা করতে। এরমাঝে দেখা গেছে উপজেলার কাইল্যানী, রুপেশ্বর, বোয়ালা, গোড়াডুবা ও বানচাপড়া হাওর সহ কয়েকটি হাওরে পানি নিষ্কাশনের জন্য নিজেদের উদ্যোগে সেচ মেশিন বসিয়ে দিন-রাত পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হলেও লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার কারণে আবারও বৃষ্টির পানি ভরপুর হয়ে যায় হাওরগুলো। এখন সারা এলাকা জুড়ে ফসল হারানোর যন্ত্রণায় বুকভরা আর্ত্বনাথ এবং বুকের ছাপা কান্নায় চরম হতাশার আগুনে জ্বলছে কৃষক। মাত্র পনেরো দিনের অপেক্ষায় ছিল ঐসব এলাকার কৃষক। স্বপ্ন ছিল বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে সোনালী ধান ঘরে তুলবে হাসি মুখে। এখন দুঃখের সাথে পাঞ্জা লড়ছে সারাবছরের পরিশ্রম। সারাবছরের স্বপ্নের ফসল দেখতে দেখতে চোখের সামনে পানিতে ডুবে গেছে। নষ্ট হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য ধান এবং গবাদিপশুর গরুর খাদ্য খড়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টগার হাওর ও বোয়ালা সহ গুড়াডোবা হাওর ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি ধান ক্ষেত এখন পানির নিচে। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বললে, তারা রুদ্ধ কন্ঠে বলেন যে, সারাবছরের কষ্টের ফসল মাত্র ১৫ দিনের অপেক্ষায় ছিলাম ফসল কটার জন্য। কিন্তু এর আগেই কালবৈশাখী বৃষ্টির পানির নিচে চলে গেছে পরিশ্রমের ফসল।

এলাকা ঘুরে জানা যায়, অধিকাংশ কৃষকেই মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন, লাভের আশায় সুদের টাকায় জমি চাষাবাদ করেছিলো। এখন তারা সহায়সম্বলহীন, সর্বস্ব হারিয়ে এখন তারা নিঃশ্ব হওয়ার পথে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা ঐসব কৃষকরা।

বিভিন্ন মহলে কথা বলে জানা যায়, হাওরের ছোট ছোট নালা খাল বিলের তলা ভরাট হয়ে গেছে। যার ফলে বিলের ডোবায় বৃষ্টির পানি ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। তাছাড়াও নদীর গভীরতা না থাকায়,পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সরতে পারে না, এবং প্রতিটা হাওরে স্লুইসগেট না থাকায়, পানি নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ নাই। সরকার সুপরিকল্পিত ভাবে, হাওর উন্নয়ন প্রকল্প হাতে না নিলে, পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে চলে যাবে। তবে টগা টঙীর বাঁধে,বোয়ালা গোড়াডোবা বাঁধে এবং প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ হাওরে স্লুইসগেট থাকলে এমন দুরবস্থার সৃষ্টি হতো না। এছাড়া উব্ধাখালি, মনাই নদী সহ সকল হাওরের অংশ বিশেষ খনন করে স্থায়ী সমাধান জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ এলাকার কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।