• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন

টুঙ্গিপাড়ায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, হুমকিতে পরিবেশ 


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ন / ১
টুঙ্গিপাড়ায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, হুমকিতে পরিবেশ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ অবৈধ ভাবে তৈরি মাটির চুল্লিতে ফলদ ও বনজ গাছের কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে বালারগাতী গ্রামে মাটির তৈরি চুল্লিতে এসব কয়লা উৎপাদন করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশ অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে খেতের ফসল ও গাছপালা। যার ফলে ঝুঁকির মুখে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে অবৈধ এই কয়লা তৈরির কারখানা। ফসলি জমি নষ্ট করে এসব চুল্লি বসানো হয়েছে। বিশেষ উপায়ে তৈরি এই চুল্লিগুলোতে প্রতিদিনই শতাধিক মণ কাঠ পোড়ানো হয়ে থাকে।

কয়লা তৈরির এ কারখানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি কারখানার মালিক  হুমায়ূন কবির তিনি গত ২ মাস ধরে কয়লা তৈরির কারখানা চালাচ্ছেন বলে প্রতিবেদককে জানান।

বালারগাতী গ্রামের বাসিন্দা মো: বাহার আলী শেখ (৪০) জানায়, কয়লা তৈরির কারখানা থেকে যখন কালো ধোঁয়া বের হয় তখন ঘরে থাকা যায় না। বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারনে চোখ জ্বলে, শ্বাস নেওয়া যায় না ও অনেক দুর্গন্ধ ছড়ায়। আমার আব্বা হাটের রোগী, যখন কালো ধোঁয়া আসে তখন ঘরে থাকতে পারে না।
‎
‎আরেক বাসিন্দা ইয়াদ আলী(৩৫) ও শাপলা বেগম (২৫) জানায়, মাটির তৈরি চুল্লিতে আগুন জ্বালালে কালো ধোঁয়ায় আশপাশ ছেয়ে যায়, এতে চোখ জ্বলে, শ্বাস নেওয়া যায় না এবং বুক জ্বালাপোড়া করে।
‎
‎ওই এলাকার আরেক শতবর্ষি বৃদ্ধ সোরহাব হোসেন (৬০) জানায়, কয়লা তৈরির কারখানার কাঠ পোড়ানো ধোঁয়ার গন্ধে নাক জ্বলে, খুব অসুবিধা লাগে ও রাতে শ্বাস কষ্টের কারনে ঘুমাতে কষ্ট হয়। কয়লা তৈরির কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারনে আশপাশের ২৫-৩০ টি বাড়ির বাসিন্দা কষ্টে দিনাতিপাত করছে বলে জানান তিনি।
‎
‎নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, চুল্লিতে কাঠ পোড়ানোর সময় চুল্লি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় চোখ জ্বালাপোড়া করে। এছাড়াও কালো ধোঁয়ার ফলে গাছপালা ও ফসলি জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে।
‎
‎কারখানার ম্যানেজার মো: শাহিন শেখার সাথে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা জানায়। তিনি কারখানার মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
‎
‎এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো: হুমায়ূন কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগে করলে তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর বা স্থানীয় প্রশাসনের কোন অনুমতি কাগজপত্র তার কাছে নেই এবং তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বা দেখা করতে পারবেন না
‎
‎এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ দিদারুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কারখানার বিষয়টি জেনেছি, অতিসত্বর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।