

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘মাদক ও ডেঙ্গুমুক্ত সুস্থ-সুন্দর দেশ গড়ার প্রত্যয়ে’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ্ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (উপসচিব) মোঃ আরিফ-উজ-জামান, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ, বিপিএম-সেবা, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ আলম। এ ছাড়াও কলেজের অন্যান্য শিক্ষকগণ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সহ আমন্ত্রিত অতিথিগণ এবং নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের কলেজ জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্বাগত জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় মাদকের ভয়াবহতা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়। মাদক ও ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং ডেঙ্গুমুক্ত সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ দেশ গঠনের প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আপনার মতামত লিখুন :